মানিকগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:০৩ পিএম
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:১৭ পিএম
দাম্পত্য কলহের জেরে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় স্ত্রীসহ তিনজনের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সাটুরিয়া উপজেলার গওলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দগ্ধ তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
আগুনে দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন- ঢাকার ধামরাই উপজেলার আমতা ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের হাসান আলীর স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), তার চাচি শিরিন আক্তার (৫৫) ও চাচাতো ভাই রুবেল হোসেন (৩২)। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত হাসান আলী পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে ধামরাইয়ের রাজাপুর গ্রামের হাসান আলীর সঙ্গে সাটুরিয়ার গওলা গ্রামের শারমিন আক্তারের বিয়ে হয়। এই দম্পতির আট বছরের একটি পুত্রসন্তান আছে। কয়েক বছর ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছে। এ নিয়ে হাসান তার স্ত্রী শারমিনকে মারধরও করতেন। দাম্পত্য কলহের জেরে গত সোমবার অভিমান করে ছেলেকে নিয়ে শারমিন গওলা গ্রামের বাবাবাড়িতে চলে যান।
শুক্রবার সকালে শ্বশুরবাড়িতে যান হাসান। সেখানেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শারমিনের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করেন হাসান। এ সময় শারমিনের চাচি শিরিন ও চাচাতো ভাই রুবেল তাকে উদ্ধার করতে গেলে তাদের শরীরেও আগুন দেন হাসান। প্রতিবেশীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে দগ্ধ হন। খবর পেয়ে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। দুপুর নাগাদ তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
শারমিনের মামা মো. বাসু বলেন, বিনা কারণে হাসান শারমিনকে প্রায়ই মারধর করত। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশও হয়েছে। সকালে শারমিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাসান শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। উদ্ধার করতে গেলে চাচি ও চাচাতো ভাইকেও আগুনে ঝলসে দেওয়া হয়।
সাটুরিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মানবেন্দ্র বালো বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অপরাধীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।