তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:৫৯ পিএম
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:৫৯ পিএম
যশোর শহরের বেজপাড়া পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পী জয়দেব পাল। মঙ্গলবার তোলা
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় আয়োজন শারদীয় দুর্গোৎসব। অক্টোবরের ৯ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া দুর্গোৎসবের বাকি এক মাসেরও কম সময়। চারদিকে এখনই শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। এ আয়োজনের অন্যতম অনুষঙ্গ দেবী দুর্গার প্রতিমা। সময় ঘনিয়ে আসায় ব্যস্ত সময় পার করছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মৃৎশিল্পীরা। এর বাইরে নয় যশোর। জেলায় এবার সাতশ মন্দিরে হবে দুর্গোৎসব। ফলে এসব মন্দিরের প্রতিমা তৈরিও এক বিশাল যজ্ঞ। নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, যশোর শহরের বেজপাড়া পূজামণ্ডপের দ্বিতীয় তলায় ভাস্কর জয়দেব পালের নেতৃত্বে সুনিপুণভাবে প্রতিমা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কয়েকজন মৃৎশিল্পী। শুধু যশোর শহর নয়। জেলাজুড়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চলছে দুর্গোৎসবের আনন্দ। প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। কথা বলে জানা যায়, দুর্গাপূজার এক সেট প্রতিমা তৈরিতে মৃৎশিল্পীরা নিচ্ছেন ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা।
যশোর শহর, ঝিকরগাছা, পাশের জেলা মাগুরা, ঝিনাইদহ ও কোটচাঁদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিমা তৈরির জন্য মন্দির কমিটির নেতারা আসছেন মৃৎশিল্পীদের কাছে। ইতোমধ্যে ৪০টি মন্দিরের প্রতিমা তৈরির অর্ডার হয়েছে। যার কাজ শুরু হয়ে গেছে। রঙ করার পর সেগুলো মন্দিরে নেওয়ার উপযোগী হবে। কয়েকদিনের মধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে মন্দির কমিটির নেতারা প্রতিমা নিতে আসবেন। যথাসময়ে প্রতিমা গ্রাহকের হাতে তুলে দিতে তৈরি মৃৎশিল্পীরাও।
বেজপাড়া পূজামন্দিরের মৃৎশিল্পী ভয়দেব পাল বলেন, আপাতত ৪৫টি মন্দিরের প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছি। প্রতিমার গড়ন হয়ে গেছে। এখন বাকি রঙ করা। এরপর সেগুলো নিয়ে যেতে পারবেন তারা। সাধারণত পূজা শুরু হওয়ার এক থেকে দুই দিন আগে মন্দিরে প্রতিমা ওঠানো হয়। তাই পূজার এক সপ্তাহ আগ পর্যন্ত প্রতিমা প্রস্তুতের কাজ চলবে। প্রতিদিনই যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মন্দির কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে প্রতিমা তৈরির জন্য আসছেন।
বেজপাড়া পূজামণ্ডপের পুরোহিত কাঞ্চন চক্রবর্তী বলেন, শারদ উৎসবের মূলত তিন পর্বের। মহালয়া, বোধন ও সন্ধ্যাপূজা। আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষকে বলা হয় দেবীপক্ষ। সাধারণত আশ্বিন মাসের প্রথমপক্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম দিন পরবর্তী সময়ে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পাচ দিন যথাক্রমে ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সনাতনদের সবচেয়ে বড় এ উৎসব শেষ হয়।
যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপঙ্কর দাস বলেন, আমরা যশোরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দুর্গোৎসব পালন করে থাকি। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও যশোরের আটটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাতশ মণ্ডপে দেবীর আরাধনা অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। কিছুদিনের মধ্যে মন্দিরে মন্দিরে প্রতিমা স্থাপিত হবে। দুর্গোৎসব নিরবচ্ছিন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এখনও কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আশা করছি, প্রতিবারের মতোই সুষ্ঠুভাবে দুর্গোৎসব পালিত হবে।