গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:৫০ পিএম
আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:১৮ পিএম
গাজীপুরের টঙ্গী, জয়দেবপুর ও শ্রীপুর উপজেলায় নানা দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় কারখানায় ভাঙচুর, মহাসড়ক অবরোধ করে তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২৫টি কারখানায় এক দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
পুলিশ ও কারখানা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে গাজীপুরের টঙ্গীতে ১৩ দফা দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করে এমট্রানেট গ্রুপ নামের কারখানার শ্রমিকরা। তাদের সঙ্গে পিনাকি গ্রুপ, ড্রেস ম্যান ও নোমান গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শ্রমিক অংশ নেয়। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের দাবি মেনে নেন কারখানা কর্তৃপক্ষ।
শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার পর এমট্রানেট গ্রুপের মানব সম্পদ কর্মকর্তা সুজন, লাকি, সফিউল্লাহ, সুমন, পিএম মো. রানা, রফিক, সুপারভাইজার মুসা, নিলুফা, শান্তা, পিএম ফরিদ ও ওয়াহিদের পদত্যাগের দাবিতে বেলা ৩টার পর থেকে আবারও আন্দোলনে নামে শ্রমিকরা।
টঙ্গীর এমট্রানেট গ্রুপের শ্রমিক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের দাবিগুলো কয়েক বছর যাবৎ মৌখিক ও লিখিতভাবে উপস্থাপন করে আসছি। মঙ্গলবার সকালে আমরা পাঁচটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা একত্রে মিলে আমাদের দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলন করছি।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের শ্রীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার মেঘনা গ্রুপের হাই ফ্যাশন কারখানার শ্রমিকরা ১৪ দফা দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করে। একপর্যায়ে তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় পার্শ্ববর্তী হাউ আর ইউ টেক্সটাইল লিমিটেডের শ্রমিকদের বের করে আনতে গেলে হামলার শিকার হন হাই ফ্যাশনের শ্রমিকরা। এ সময় উত্তেজিত শ্রমিকরা হাউ আর ইউ টেক্সটাইলে ঢুকে ভাঙচুর চালায়।
এ ছাড়া জেলার জয়দেবপুর থানার নতুন বাজার এলাকার এসএম নীটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরা মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় কারখানা প্রবেশ করে হাজিরা বোনাস বৃদ্ধিরসহ ১০ দফা দাবিতে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে অ্যাসরোটেক্স লিমিটেডের শ্রমিকরা দুপুর ১২টার দিকে কারখানার প্রধান গেটে ইট পাইকেল ছুড়তে থাকে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হলে এসএম নীটওয়্যার ও অ্যাসরোটেক্স লিমিটেডের শ্রমিকরা এ্যাপারেলস-২১ লি. ও গ্রীণ ফাইবার কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার গেটে গেলে কারখানা কর্তৃপক্ষ ওই দুটি কারখানায়ও ছুটি ঘোষণা করেন। পরে দুপুর ১টার দিকে শ্রমিকরা যার যার অবস্থান থেকে সরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের এসপি সারোয়ার আলম জানান, সকাল থেকে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা নানা দাবি নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার পর দুপুরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে শ্রমিক উত্তেজনা যাতে অন্যান্য কারখানায় ছড়িয়ে না পড়ে সেটি বিবেচনায় ২৫টি কারখানায় এক দিনের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে রয়েছে শিল্প পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি।