প্রতিদিনের বাংলাদেশে সংবাদ প্রকাশ
মাদারীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:২০ পিএম
আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:৫৮ পিএম
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ে পৈতৃক ভিটা বিএনপি নেতার হাত থেকে দখলমুক্ত করা হয়। প্রবা ফটো
প্রতিদিনের বাংলাদেশে সংবাদ প্রকাশের পর মাদারীপুরের ডাসারে অবস্থিত প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটা বিএনপি নেতার হাত থেকে দখলমুক্ত করে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে কালকিনি উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে লেখকের পৈতৃক ভিটা দখলমুক্ত হওয়ার কথা জানান কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উত্তম কুমার দাশ। তবে অভিযুক্ত দখলদারের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এর আগে একই দিন সকালে পুলিশ ও সেনাসদস্যের নিয়ে লেখকের পৈতৃক ভিটা পরিদর্শন করেন ইউএনও। এ সময় লেখকের ঘরে দখলদারের লাগানো তালা ভেঙে নতুন তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।
এ সময় ইউএনওর সঙ্গে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবা ইসলাম, ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শফিকুল ইসলাম, কাজীবাকাই ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাসহ গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) কালকিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক সোহেল হাওলাদার লেখকের পৈতৃক ভিটা নিজের পারিবারিক জমি দাবি করে দখলে নেন। এ সময় লেখকের ঘরে থাকা একাধিক ছবি, লেখকের ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ওই ঘরে ওএমএসের চাল মজুদ করে ঘরটি তালাবদ্ধ করে রাখেন তিনি।
ডাসার, কালকিনি উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ডাসার উপজেলার কাজীবাকাই ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়ায় মৌজায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ৭ একর ১৫ শতাংশ পৈতৃক জমি রয়েছে। এসব জমির মধ্যে ২ একর ৯৭ শতাংশ জমি সরকারের খাসজমি হিসেবে রেকর্ড রয়েছে। গত শনিবার দুপুরে লেখকের পৈতৃক ভিটার একটি টিনশেড ঘরের (সুনীল স্মৃতি পাঠাগার) তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সোহেল হাওলাদার ও তার লোকজন। পরে তারা লেখকের ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি, আসবাবপত্র, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিসহ একাধিক ছবি ভাঙচুর করে। এরপর তারা ওই ঘরে ওএমএসের প্রায় এক ট্রাক চাল মজুদ রেখে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ ছাড়াও লেখকের বাড়ির সামনে জেলা প্রশাসক কর্তৃক লাগানো একটি সাইনবোর্ডও ভেঙে সরিয়ে ফেলা হয়।
এ নিয়ে সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রতিদিনের বাংলাদেশের অনলাইনে ‘মাদারীপুরে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটা বিএনপি নেতার দখলে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরেই সাহিত্যপ্রেমী, সাংস্কৃতি অঙ্গন ও সচেনত নাগরিকরা এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সোমবার রাতেই জেলা প্রশাসন থেকে লেখকের বাড়িটি পুনরুদ্ধারের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কালকিনি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উত্তম কুমার দাশ বলেন, ‘সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ে পৈতৃক ভিটা ও জমি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে প্রশাসন। লেখকের ঘরে নতুন তালা লাগানো হয়েছে। এই জমিতে অনুমতি ছাড়া কেউ যেন প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। অতি শিগগিরই আমরা লেখকের পৈতৃক ভিটায় সুনীল স্মৃতি মিউজিয়াম, সুনীলের আবক্ষ মূর্তি স্থাপন, পুকুর পাড় সংলগ্ন উন্মুক্ত মঞ্চ, শান বাঁধানো ঘাট নির্মাণ করা হবে। এর ফলে লেখকের পৈতৃক ভিটা একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে সবার কাছে পরিচিতি লাভ করবে।’
ইউএনও আরও বলেন, ‘অভিযুক্ত ওই নেতার বিরুদ্ধে আইন ব্যবস্থা এখনও নেওয়া হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুসারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জানতে চাইলে ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন থেকে দখলদারের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলেই আমরা অনুপ্রবেশকারী দখলদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এ ছাড়া এ ধরনের ঘটনা আর যেন না ঘটে সেই বিষয় পুলিশ লেখকের বাড়িটি নজরদারিতে রাখবে।’
উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ১৯৩৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ভারতের মাদারীপুর মহকুমার রাজৈরের আমগ্রামের মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি তৎকালীন মাদারীপুর মহকুমার কালকিনির পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে। তিনি ২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর কলকাতায় মারা যান।