কুষ্টিয়া প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:২৭ পিএম
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:৫৩ পিএম
‘আমি নেতৃত্ব দিয়ে কুষ্টিয়া থানা ভেঙেছি’ এমন বক্তব্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল মাজেদ দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার কুবুরহাটে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন ডেকে এমন বক্তব্য দেওয়া ঠিক হয়নি বলে ভুল স্বীকার করেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল তার দেওয়া পুরোনো বক্তব্য ভাইরাল করে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছে।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন থানায় ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটপাটের ঘটনা ঘটে। একইভাবে কুষ্টিয়া মডেল থানায়ও ব্যাপক ভাঙচুর, অস্ত্র লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) এসএম আব্দুল আলিম একটি মামলা করেছেন। হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ হাজার জনকে আসামি করা হয়।
৫ আগস্ট কুষ্টিয়া থানায় হামলার সঙ্গে জড়িত নন দাবি করে লিখিত বক্তব্যে মাজেদ বলেন, হামলার সময়কার ভিডিও ফুটেজ দেখলে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে না।
রবিবার ‘কুষ্টিয়া থানা আমি মাজেদ নেতৃত্ব দিয়ে ভেঙেছি’ বলে দেওয়া বক্তব্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তার বক্তব্যের চার মিনিটের একটি ভিডিও নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
ভিডিওতে মাজেদকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকে এই শেখ হাসিনার সরকার পালাতে বাধ্য হয়েছে। কুষ্টিয়ায় লাস্টের দিন (৫ আগস্ট) যেদিন ক্ষমতা হস্তান্তর হয়, সর্বপ্রথম, যারা এখানে আন্দোলনকারী আছে জিজ্ঞাসা করেন, কুষ্টিয়া থানা আমি মাজেদ নেতৃত্ব দিয়ে ভাঙিছি। এমন একটা দিন নাই, আমার তিনটা ছেলে, আমার পরিবার, আপনাদেরই চাচি, সে নিজেও এই আন্দোলন–সংগ্রামে যুক্ত হয়েছে। আপনারা আপনাদের ছেলেপেলেদের মারেও ঠেকাতে পারেন নাই। রক্তে যখন টান দেয়, তখন জনগণের স্রোত ঠেকানো যায় না। তাই জনগণের স্রোতে হাসিনা চলে গেছে।’
গত ৭ আগস্ট এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শান্তি সমাবেশ করেন এই যুবদল নেতা। ওই সমাবেশে এই বক্তব্য দেন তিনি। তবে তার এমন বক্তব্য দেওয়া ঠিক হয়নি বলে এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলনে মাজেদ দাবি করেন, ভুলবশত তিনি কুষ্টিয়া থানা ভাঙার ওই বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ১৫-১৬ বছর ধরে স্বৈরাচারী সরকারের নির্যাতন হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন তিনি। দিনের পর দিন নিজের বাড়িতে ঘুমাতে পারেননি। বিগত দিনে তিনি স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। এ কারণে একটি মহল তার দেওয়া পুরোনো বক্তব্য ভাইরাল করে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।