ভোলার বোরহানউদ্দিন
জুয়েল সাহা বিকাশ, ভোলা
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১০:৫১ এএম
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১১:১৫ এএম
এভাবে ভাঙছে ভোলার বোরহানউদ্দিনের সাচড়া ইউনিয়নের ২৭ বছর পুরোনো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। সম্প্রতি ইউনিয়নের দেউলা শিবপুর এলাকা। প্রবা ফটো
ভোলার বোরহানউদ্দিনের সাচড়া ইউনিয়নে প্রায় ২৭ বছর পুরোনো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে হাজার হাজার বসতঘর, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, লঞ্চঘাটসহ সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন মেরামত না করায় তেঁতুলিয়া নদীর অতি জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধটি বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত মেরামত ও সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি তাদের।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো ডিভিশন-১) নির্বাহী প্রকৌশলীর তথ্য মতে, ১৯৯৭ সালের দিকে ভোলা ইরিগেশন বা ভোলা সেচ প্রকল্পের আওতায় বোরহানউদ্দিন উপজেলার কালিগঙ্গা থেকে লালমোহনের বদনপুর ইউনিয়নের রোজিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। তবে কত টাকা ব্যয়ে এই বাঁধটি নির্মাণ করা হয় সে বিষয়ে কোনো তথ্য আপাতত নেই বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের দেউলা শিবপুর, বাতান বাড়ি দরজা, দরুন খাল, বুড়ি বাড়ির দরজা, চর গঙ্গাপুর হাসানই বাড়ির দরজা, চর গঙ্গাপুর ভায়াল বাড়ি দরজা ও ফকির বাড়ির দরজাসহ ৭ টি পয়েন্টে তেঁতুলিয়া নদীর অতি জোয়ারের চাপে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
উপজেলার দেউলা শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহে আলম, আবুল কামাল, আবুল হোসেনসহ কয়েকজন জানান, প্রায় ৩৫ বছর আগে তাদের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে বিলীন হয়। প্রায় ২৭ বছর আগে এই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি নির্মাণ হলে বাঁধের পাশে জমি কিনে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তেঁতুলিয়া নদীর অতি জোয়ারের পানির চাপে বাঁধটির বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙনের দেখা দেওয়ায় তারা চিন্তিত। আর বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বসতঘর তলিয়ে গেলে কিংবা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেলে তাদের পক্ষে নতুন করে জমি কিনে বসতঘর তোলা সম্ভব নয়।
জাকির হোসেন, মো. ফরিদ, মো. সোহাগ, খাদিজা আক্তার, পারভিন বেগমসহ কয়েকজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা নিশ্চিন্তে বসবাস করে আসছিলেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাদের এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটির বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধ ভেঙে গেলে তাদের বসতবাড়ি নদীতে চলে যেতে পারে। এমনটা হলে তাদেরকে উদ্বাস্তু
হতে হবে।
তারা জানান, এই বাঁধটি যদি ভেঙে যায় তাহলে প্রথমে বোরহানউদ্দিনের সাচড়া ও দেউলা ইউনিয়ন এবং লালমোহনের বদরপুর ইউনিয়ন জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হবে। পরবর্তীতে ভাঙনের শিকার হবে। তাই বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুত বাঁধটি স্থায়ীভাবে সিসি ব্লক দিয়ে মেরামতের দাবি তাদের।
কৃষক মো. সিদ্দিক মিয়া ও জয়নাল আবেদীন বলেন, বেড়িবাঁধের পাশের কৃষিজমিতে বিভিন্ন ধরনের ধান, গম, ডাল ও সবজি চাষাবাদ করে সংসার পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু বাঁধটি ভেঙে গেছে। এতে তাদের কৃষিজমিতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে ভাঙনের সৃষ্টি হবে। তখন কীভাবে তারা কৃষি করবেন। আর তাদের সংসার কীভাবে চলবে তা নিয়েও চিন্তায় তারা।
ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডর (পাউবো ডিভিশন-১) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান জানান, দীর্ঘদিন ধরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি মেরামত না করায় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধটি মেরামত করা হবে। বাঁধের স্থায়িত্ব বৃদ্ধির জন্য সিসি ব্লক দিয়ে নির্মাণেরও আশ্বাস দেন তিনি।