সিলেট অফিস
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:০৩ পিএম
সিলেটে বন্ধ থাকা পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বৃহত্তর সিলেট পাথরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা। তারা বলছেন, সনাতন পদ্ধতিতে পাথর আহরণের জন্য কোয়ারি খুলে দিলে লাখো মানুষের জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে বন্যার ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পাবে সিলেট। একই সঙ্গে সিলেটের পাথর দিয়ে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ হবে এবং রিজার্ভের ওপর চাপ কমবে। রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরেন বৃহত্তর সিলেট পাথরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক শাব্বির আহমদ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সাত বছর ধরে সিলেটের লাখো মানুষের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম পাথর কোয়ারিগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিবেশের দোহাই দিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পাথর আহরণ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ভয়াবহ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। লাখ লাখ মানুষ অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টে আছে। সিলেটের প্রান্তিক জনপদে বিরাজ করছে দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি।
শাব্বির আহমদ বলেন, বিগত সরকারের মদদপুষ্ট একটি দুষ্টচক্র ও চিহ্নিত সিন্ডিকেটের প্রত্যক্ষ ইশারায় সিলেটের লাখ লাখ মানুষের রোজগারস্থল পাথর কোয়ারি বন্ধ করে দেওয়া হয়। কোয়ারি বন্ধ করে দিয়ে এই চক্র রিজার্ভের ডলার দিয়ে ব্যাপকভাবে পাথর আমদানি করে দেশের অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতিসাধন করেছে। স্থানীয় পাথর কোয়ারিতে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় করে পাথর আমদানির ফলে আমাদের অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়।
তিনি আরও বলেন, যুগ যুগ ধরে উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে নেমে আসে রাশি রাশি পাথর। এসব পাথর সংগ্রহ করেই এ অঞ্চলের প্রায় সব মানুষ জীবিকা নির্বাহ করত। দেশের নির্মাণশিল্পের অন্যতম উপাদান হিসেবে এ অঞ্চলের পাথর ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
পাথর আহরণ বন্ধ থাকায় প্রতিবছর বন্যার ভয়াবহতা বাড়ছে বলে মনে করেন পাথর ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা। বক্তব্যে পরিষদের সমন্বয়ক বলেন, ঢলের তোড়ে নেমে আসা পাথর ও বালি সঠিকভাবে আহরণের কারণে নদীর নাব্যতাও ঠিক থাকত। ফলে আগে এ অঞ্চলে বন্যার ভয়াবহতা দেখা যায়নি। কিন্তু পাথর আহরণ বন্ধ করে দেওয়ায় সিলেটের নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ার কারণে পানি নিষ্কাশনে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। এতে প্রতিবছর এ অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিচ্ছে।
শাব্বির আহমদ আরও বলেন, ধলাই ও পিয়াইন নদীর উৎসমুখে রাশি রাশি পাথর জমা হওয়ার ফলে ইতোমধ্যে এ অঞ্চলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের তীরবর্তী বেশ কয়েকটি জনপদ যেকোনো সময় ঢলে নিশ্চিহ্ন হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অথচ নদীর উৎসে জমাটকৃত পাথর অপসারণ করা হলে এ অঞ্চলের মানুষ বন্যা ও ঢলের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেত।
পাথর কোয়ারি বন্ধ করায় দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন এই নেতা। তিনি বলেন, ‘সিলেটের পাথর কোয়ারি যখন চালু ছিল তখন এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ছিল ব্যাপক। শত শত কোটি টাকা পাথর ব্যবসায় বিনিয়োগ করে লাখ লাখ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করত। লাখ লাখ বারকি শ্রমিকের উপার্জনের সুযোগ ছিল। পাথর কোয়ারি বন্ধ হওয়ায় এসব মানুষ এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। কোটি কোটি টাকা ব্যাংকঋণ নিয়ে এখন দেউলিয়া হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
কোয়ারি বন্ধ করে দিয়ে স্থানীয় পাথরের চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে নিন্মমানের পাথর আমদানি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এতে অবকাঠামো নির্মাণে স্থায়িত্ব ও টেকসই হবে না বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া পাথর আমদানির ব্যয় মেটাতে রিজার্ভের ডলার খরচ হচ্ছে। যা কেন্দ্রীয় রিজার্ভে প্রভাব ফেলছে। অবিলম্বে পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, আমরা ইতোমধ্যে মিছিল মিটিং, স্মারকলিপি প্রদানসহ নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছি। বিগত সরকারের আমলে আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলন চালাতে গিয়ে সিন্ডিকেট ও প্রশাসন কর্তৃক ব্যাপকভাবে হয়রানি ও নাজেহালের শিকার হয়েছি। এখন দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ দূর হয়েছে, সিন্ডিকেট নামক অপশক্তিও পালিয়েছে। তাই সিলেটের লাখো মানুষের জীবন ও জীবিকার পথ সুগম করতে অবিলম্বে পাথর কোয়ারি খুলে দিয়ে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর আহরণের সুযোগ দেওয়া হোক।