× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঘরের আগুনে পুড়ছে বিএনপি, প্রতিনিয়ত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

রাজবাড়ী প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:২৪ পিএম

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:৩৭ পিএম

রাজবাড়ী জেলা বিএনপির কার্যালয়।

রাজবাড়ী জেলা বিএনপির কার্যালয়।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি স্পষ্টত দুই বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করছে তারা। এসব কর্মসূচিতে এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলদারি ও নানা অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ করে আসছে। এ নিয়ে এলাকায় সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় গোয়ালন্দ প্রেস ক্লাবে একটি গ্রুপ সংবাদ সম্মেলন করে, অপরদিকে আগের দিন বুধবার অপর গ্রুপ একই স্থানে সংবাদ সম্মেলন করে। এতে এক পক্ষ অপর পক্ষের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজ, দখলবাজসহ নানাভাবে হেয়প্রতিপন্ন করে বক্তব্য দেয়।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওইদিন বিএনপির নেতাকর্মীরা একত্রে মিছিল করেছিলেন। কিন্তু তার পর তাদের আর একসঙ্গে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি। বরং প্রায় প্রতিদিন পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করে আসছে। সংবাদ সম্মেলন ছাড়াও গত ৩ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি গ্রুপ বিএনপি নেতা আসলাম মিয়ার বড় ভাই বিচারপতি সামছুল হক মিয়াকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে ফাঁসির দাবিতে মানবনন্ধন কর্মসূচি পালন করে। আবার ওইদিন বিকাল ৫টার দিকে অপর গ্রুপ আগে কর্মসূচি পালনকারীদের চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও সংস্কারপন্থি হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিচারের দাবি করে। এ ছাড়া গত ৫ আগস্টের পর থেকে প্রতিনিয়তই দুটি গ্রুপ আলাদা আলাদা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।

এদিকে দুই গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় যেকোনো সময় গোয়ালন্দে বড় ধরনের সংঘর্ষ বাধার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে করে দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা দিন দিন হতাশ হয়ে পড়ছেন। নাম প্রকাশ না করে বিএনপির এক কর্মী আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের ভুল ধরার জন্য আওয়ামী লীগের দরকার নেই, আমরাই যথেষ্ট। আমরাই একে অপরের গালাগালি করছি।’ সব মিলিয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপি এখন নিজ ঘরের আগুনে পুড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোয়ালন্দে বিএনপির সক্রিয় দুটি গ্রুপ রয়েছে। এর মধ্যে এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। অপরটি জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি আসলাম মিয়া। উভয় গ্রুপের নেতারা নিজেদের নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করে এক গ্রুপ অপর গ্রুপের বিরুদ্ধে নানা কুৎসা রটাচ্ছে।

খৈয়ম গ্রুপের পক্ষে গোয়ালন্দে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা, জেলা বিএনপির সদস্য এবিএম ছাত্তার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ। অপরদিকে আসলাম মিয়া গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. নিজামউদ্দিন সেক, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ আহমেদ প্রমুখ।

আসলাম গ্রুপের নেতারা দাবি করেন, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ছিলেন। ওয়ান ইলেভেনের পর থেকে খৈয়ম দলের মধ্যে সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিত। তার অগণতান্ত্রিক মনোভাবের কারণে স্থানীয় বিএনপির পুরোনো ও ত্যাগী নেতাকর্মীর বড় একটি অংশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। এমন অবস্থায় আসলাম মিয়ার নেতৃত্বে ওইসব পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বর্তমানে মাঠে আছেন।

খৈয়ম গ্রুপের নেতৃত্বদানকারী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা জানান, একটা সময় রাজবাড়ী জেলায় বাম রাজনীতির প্রভাব ছিল, তাই নব্বইয়ের দশকে তিনি ও তার নেতা আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে ২০০০ সালের আগে থেকে তারা বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে এযাবৎকালের সব আন্দোলন-সংগামে সক্রিয় থেকেছেন। অথচ আসলাম মিয়া আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতায় বিএনপিকে চরম ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। বিভিন্ন সময় স্থানীয় নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। ওই গ্রুপটি তাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আসছে। কিন্তু তারা তাদের নেতা আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের নির্দেশে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রেখেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির কমিটি হবে জনসম্মুখে। বিগত আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসার মতো চুপিচুপি কমিটি করা হয়েছে। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে বিএনপির সম্মেলন করা হয়েছে। বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের এলাকায় আসার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিজামউদ্দিন সেক বলেন, গত ৫ তারিখে সরকার পতনের পর থেকে ওই গ্রুপটি বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও লুটপাট করে যাচ্ছে। আমরা বাধা দিলেও তারা মানছে না। তারা দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলের উচ্চপর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছি। 

তিনি আরও বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধিতার কারণে শহরে উপজেলা বিএনপির সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে উপজেলার নবু ওসিমদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাঠে সম্মেলন করে সরাসরি কর্মীদের ভোটে কমিটি গঠন হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা