বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০৯:৫২ এএম
আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১০:৫০ এএম
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর চরাদী ইউনিয়নের ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া মিলছে না সেবা। কাজের ধরন ও জমির পরিমাণ অনুযায়ী ঘুষের হার নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান নিজেই এ কাজটি করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, চরাদী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান ও চরাদী গ্রামের সেবাগ্রহীতা লতিফ হাওলাদারের সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকায় একটা কাজের চুক্তি হয়। হাবিবুর রহমান এ সময় প্রকাশ্যে ১ হাজার ৮০০ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। বাকি ৩ হাজার ২০০ টাকা নিয়ে এলে কাজ হয়ে যাবে বলে লতিফ হাওলাদারকে তিনি জানান।
টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান কিছুটা বিচলিত হয়ে বলেন, জমির কর হিসেবে ১ হাজার ৮০০ টাকা নিয়েছি। তার কাছে আরও ৩ হাজার ২০০ টাকা বকেয়া রয়েছে। ১ হাজার ৮০০ টাকা অগ্রিম নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বাকি টাকা পরে দেবে তাই টাকা রাখা হয়েছে। ঘুষের টাকা গ্রহণের ভিডিও দেখালে তিনি চুপ হয়ে যান।
জানা গেছে, ভূমি-সংক্রান্ত সব কাজে সেবাগ্রহীতাদের গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা, অন্যথায় সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনিয়ম, ঘুষ, দুর্নীতি, হয়রানিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে এই ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ভূমি অফিসের চৌহদ্দিতে ঢুকলেই তহশিলদারের নিজের করা আইন মানতে হয় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নামজারি খারিজের বেলায় সরকার-নির্ধারিত ফি ১ হাজার ১৫০ টাকা হলেও অতিরিক্ত হিসেবে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা এমনকি ব্যক্তিভেদে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন ওই কর্মকর্তা। দাবিকৃত ঘুষের অর্থ দিতে অস্বীকার করলে নানা টালবাহানা করে জমির মালিকদের হয়রানি করেন তিনি।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেএম ইশমাম এ ব্যাপারে বলেন, ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।