প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:৪০ পিএম
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২৩:০০ পিএম
বাঁশের তাক দিয়েই শুরু হয় লাইব্রেরি পথচলা
২০১১ সালে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের বড়গাছা গ্রামের বড়গাছা বাজারের পাশে একটি জমিতে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘ভিলেজ কেয়ার গ্রন্থাগার’। ওই বছর একুশে ফেব্রুয়ারি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে লাইব্রেরির কার্যক্রম চালু হয় এবং সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন সে সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ পড়ুয়া কয়েকজন তরুণ। বড়গাছা গ্রামের মতো একটা অজপাঁড়াগায়ে বই পড়া বিষয়টা ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছে থেকেই লাইব্রেরি উদ্যোগ নেওয়া।
-66d73c9a3d73c.jpg)
বই পড়া ছড়িয়ে দেওয়ার সংগ্রামের আতুঘর লাইব্রেরিটি গত ৫ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা কিংবা সাড়ে ৭টার দিকে একদল দুষ্কৃতিকারী ভাঙ্গচুর করে ও বইগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। কেন এই লাইব্রেরিতে হামলা হয়েছে তবে লাইব্রেরির কার্যকরী সদস্যরা সে সময় দায়িত্বরত সেনাবাহিনীকে বিষয়টি জানায়।
-66d73e59b0571.jpg)
প্রতিদিনের বাংলাদেশ খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে, দীর্ঘ তেরো বছরের পরিশ্রমে সংগ্রহ করা সাড়ে তিন থেকে চার হাজার বই পুড়ে গেছে। স্থানীয় স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় পাঠকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল লাইব্রেরিটি। হয়ে উঠেছিল সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের উপযোগি স্থান হিসেবে।
-66d73f7bbfe97.jpg)
লাইব্রেরির কার্যকারী সদস্য শাহরিয়ার সাজ্জাদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, ‘ ২০১১ সালে লাইব্রেরি অবয়ব পেলেও ভিলেজ কেয়ার মূলত ২০০৭ থেকে কার্যক্রম শুরু করেছিল। ৫ বছরের সংগ্রামের পর লাইব্রেরিটি দৃশ্যমান হয়। সে সময় থেকে গ্রামের সব মানুষেরাই নানান ভাবেই উৎসাহ ও সহযোগিতা করে পাশে রয়েছে। একটা বাঁশের তাকে সামান্য কিছু বই রেখে লক্ষ্যের দিকে দীর্ঘপ্রথম অতিক্রমে পড়ার জন্য প্রয়োজনী বাসার জায়গা আর শিশুতোষসহ নানান চিন্তার বইয়ের সমাবেশ করতে পেরেছিল।
তিনি আরও জানান, ‘আমাদের সংগ্রহের কিছু বই ছিল। আবার নিজেরা ফান্ড সংগ্রহ করে কিছু বই কিনে লাইব্রেরিটা শুরু করি। এই দীর্ঘ সময়ে লাইব্রেরিতে পরিচিত-অপরিচিত কত ফেসবুক বন্ধু, কবি, সাংবাদিক বই দিয়েছিলেন, সহযোগিতা করেছেন। আমরা বিশ্বাস করতাম, বই থেকে অর্জিত জ্ঞান আহরণেই মানুষের চিন্তাকে মার্জিত করে এবং সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। আমরা বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে লাইব্রেরি মুখি করার জন্য উৎসাহ দিতাম। বাড়িতে বই নিয়ে পড়ারও সুব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।’
-66d740160df07.jpg)
গত ৫ আগস্টের লাইব্রেরি পুড়ে যাওয়ার পর অনেকেই ভেঙে পড়েন। কিন্তু পরবর্তীতে আবার লাইব্রেরিটিকে ব্যবহারোপযোগী করার জন্য তারা ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিতে শুরু করেছেন বলে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান।
এ বিষয়ে লাইব্রেরির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা সোহরাব আরেফিন অমিত জানান, ‘কারা করেছে তা আমাদের জানা নেই। ওই সময় অনেকেই বিক্ষিপ্তভাবে ছিল। আমরা অনেকেই ঢাকায় স্থায়ী ভাবে থাকি। ঢাকা থেকেই বই সরবরাহ করি বইমেলায় ’পুঞ্জি’ নাম দিয়ে বই উত্তোলন করেও পাঠিয়ে ছিলাম। ৫ তারিখ রাতে আমাকে একটা ভিডিও পাঠানো হয়। সেখানে দেখি আমাদের লাইব্রেরিতে ভাঙুচুর আর বইয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। ততক্ষণে আগুন নিভে গেছে। কিন্তু ভেতরে বইগুলো আস্তে আস্তে পুড়ছিল তা দেখা গেছে’।
অঁজপাড়াগায়ে একটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অসংখ্য শিশু, শিক্ষার্থী এমনকি বই নিয়ে আলোচনায় আগ্রহীরা এখন ব্যথিত। কিন্তু লাইব্রেরিটিকে তারা আবার পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টায় ব্যস্ত। এ বিষয়ে শাহরিয়ার সাজ্জাদ আরও বলেন, ‘লাইব্রেরি পুড়িয়ে, ভেঙ্গে কিছু কায়েম করা যায় কিনা জানি না। কিন্তু মূর্খতা আর অন্ধত্ব ছড়িয়ে দেওয়া যায়। তা হবে না। আমরা আবার বই দিয়ে সমৃদ্ধ করবো। আবার সাজিয়ে তোলা হবে লাইব্রেরিকে। আমাদের ভাইয়েরা-বোনেরা-সন্তানরা বই পড়বে। জ্ঞানের জন্য পড়বে।’
-66d73fe48be2b.jpg)
লাইব্রেরিটি আবার গড়ে তোলার জন্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা বই সংগ্রহের ইভেন্ট শুরু করেছে। এজন্য আবারও বইপ্রেমিক ও সচেতন নাগরিকদের সহায়তা চেয়েছেন তারা। এ বিষয়ে লাইব্রেরির কার্যকারী সদস্য শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, ‘আমরা কারো কাছে অর্থ সাহায্য চাচ্ছিনা। আমরা আবার লাইব্রেরিতে অসংখ্য বই দেখতে চাই। আমাদের লাইব্রেরিটা আরও বড় হবে। সংস্কারের কাজ আমরা করবো। আমরা সহযোগিতা হিসেবে বই চাচ্ছি। আপনাদের পাশে থাকা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোর দিকে নিয়ে যাবে।'