চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৪ ১৮:০২ পিএম
শনিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ফারুক-ই-আজম। প্রবা ফটো
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের এবার টেকসই পুনর্বাসন করার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম।
তিনি বলেন, আগামীর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সঠিক ও পদ্ধতিগতভাবে সম্পন্ন করা হবে। এটার জন্য প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেটা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হবে। আর এতে জনগণকে সম্পৃক্ত করা হবে। যাতে মানুষ জানতে পারেন কি হচ্ছে, কেন হচ্ছে এবং কোথায় কোথায় হচ্ছে। আর এই পুনর্বাসন কার্যক্রমে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা এবং স্বেচ্ছাসেবকেরাও যোগ দেবেন। কার্যকরভাবে যাতে পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয় সেজন্য তাদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে।
শনিবার (৩১ আগস্ট) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
ফারুক-ই-আজম বলেন, আমরা উপলব্ধি করেছি ত্রাণ কার্যক্রমে মানুষের উচ্ছ্বাস। অদ্ভূত এক পরিবর্তন হয়েছে দেশে। ত্রাণের কাজে মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছে। সেটা অন্তবর্তীকালীন এই সরকারের জন্য বড় শক্তি। এই কারণে এখন মানুষের কাছে যাওয়া এবং সেবা দেওয়া সহজ হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, মাঠ পর্যায়ের বন্যা এবং বন্যোত্তর পরিস্থিতি জানার জন্য আমি সকল কর্মকর্তাদের আহ্বান করেছিলাম। তাদের কাছ থেকে মাঠ পর্যায়ে কি পরিস্থিতি বিরাজ করছে তার বাস্তব চিত্র পেলাম। এটার নিরিখেই আগামী দিনের পুনর্বাসন কর্মসূচি নিয়ে আমরা একটা ধারণা পেলাম। আর এটার ভিত্তিতেই আগামীদিনের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হবে। তাছাড়া এখনও পানি পুরোপুরিভাবে নেমে না যাওয়ায় কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা পুরোপুরি নিরূপণ করা যায়নি। সে জন্য শুরুতে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হবে। সেখানে স্থায়ী টেকসই পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হবে। এখন ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। পানি নেমে গেলে আমরা পুনর্বাসনে নামবো। জনস্বাস্থ্যের দিকেও সরকার বিশেষ নজর রাখছে। বন্যায় পানিবাহিত নানা রকম রোগ হচ্ছে। সেগুলো আমরা চিহ্নিত করতেছি।
তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতি দেখেছি, এখনও মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। সেখানে শুকনো এবং রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে ফেনীসহ বিভিন্ন এলাকা দুর্গম হওয়ায় এবং সেখানে নৌকার সংস্কৃতি না থাকার কারণে দূর-দূরান্ত থেকে নৌকা, সেনাবাহিনীর বোটসহ বিভিন্ন পরিবহন এনে দূরবর্তী মানুষের কাছে যেতে সময় লেগেছে এটা সত্যি। কিন্তু আন্তরিকভাবে ত্রাণ দেওয়ার আগ্রহের কোনো কমতি ছিল না। এটা আমাদের শক্তি জুগিয়েছে। তবে মানুষজনকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দিতে কিছুটা সময় লাগবে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে স্বাভাবিকজীবনে ফিরিয়ে আনা হবে। আমাদের পর্যাপ্ত বরাদ্দ আছে।