গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৪ ১০:৫৫ এএম
আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৪ ১১:১৫ এএম
রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বন্যা ও ভাঙন আতঙ্ক। প্রবা ফটো
ভারতের ফারাক্কা বাঁধের সবকটি গেট খুলে দেওয়ায় রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বন্যা ও ভাঙন আতঙ্ক। তবে এখন পর্যন্ত রাজবাড়ীর সব গেজ স্টেশন পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার নিচে থাকায় স্বস্তিতে রয়েছে জেলাবাসী।
গত সোমবার ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেওয়া হলেও প্রতিদিনই কমছে রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর অংশের পানি। গত ২৪ ঘণ্টায় গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পয়েন্টে ১২ এবং সদর উপজেলার মহেন্দ্রপুর পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার কমেছে পদ্মার পানি। তবে এখন পর্যন্ত পাংশা সেনগ্রাম পয়েন্টের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডসূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
পদ্মাবিধৌত রাজবাড়ীর পাঁচ উপজেলার মধ্যে বালিয়াকান্দি ছাড়া চার উপজেলা সদর, গোয়ালন্দ, কালুখালী ও পাংশা পদ্মাতীরবর্তী। প্রতি বছর বর্ষায় বাঁধের বাইরে থাকা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও নদীর কোল ঘেঁষে শহররক্ষা বাঁধ থাকায় বন্যার হাত থেকে রক্ষা পায় জেলাবাসী। তবে এবার ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেওয়ার খবরে জনমনে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। এদিকে বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়। নগদ টাকা, শুকনো খাবার ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডসূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৮ দশমিক ২০ মিটারের স্থানে ৬ দশমিক ৭৮ এবং সদরের মহেন্দ্রপুরে ১০ দশমিক ৫০ মিটারের স্থানে পদ্মার পানি রয়েছে ৮ দশমিক ১ মিটার।
পদ্মাতীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, ‘শুনেছি ফারাক্কা বাঁধ ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত রাজবাড়ীতে পানি আসেনি। এ পানি আসতে কয়েক দিন লাগবে।’ এখন তারা ভয়ে আছেন, কখন পানি চলে আসে। এমনিতেই নদী ভাঙনে তাদের ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। এ অবস্থায় যদি বন্যা হয়, তাহলে পরিবার-পরিজন ও গবাদি পশু নিয়ে কোথায় যাবেন, কী করবেন বুঝতে পারছেন না। আর এ পানি এলে তো একবারে আসবে।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এম এ শামীম বলেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ ফারাক্কা বাঁধের গেট বর্ষা মৌসুমে কমবেশি খোলা থাকে।’ বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিন রাজবাড়ীতে বন্যা হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তার পরও বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের সমস্যা মনে হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।