রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৪ ১৬:০২ পিএম
গাজী টায়ার কারখানা পরিদর্শন করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হক। প্রবা ফটো
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের রূপসীতে অবস্থিত গাজী টায়ার কারখানায় আগুনের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হামিদুর রহমানকে প্রধান করে ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিদ্যুৎ, কলকারখানা, ফায়ার সার্ভিসসহ সব বিভাগের প্রতিনিধি রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে গাজী টায়ার কারখানা পরিদর্শন শেষে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘৮ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের একটি তালিকা তৈরি করতে। ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘কারখানার যে ভবনটিতে আগুন লেগেছে সে ভবনের ভেতরে সালফারসহ ক্যামিকেল থাকার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও তাপ ও ধোঁয়া রয়ে গেছে। এ কারণে উদ্ধার কাজ চালানো যাচ্ছে না। খুব দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করা হবে।
১৬ ঘন্টা পরও উদ্ধার কাজ শুরু হয়নি
গাজী টায়ারের ছয়তলা ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণের ১৬ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত উদ্ধারকাজ শুরু করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকেই নিখোঁজদের স্বজনরা কারখানার ভেতরে ও বাইরে এসে ভীড় জমাতে থাকে। উদ্ধারকাজ শুরু না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ পর্যন্ত ১৭৬ জন নিখোঁজের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা। মঙ্গলবার সকালে পুলিশের ক্রাইম সিন ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কারখানা পরিদর্শন করেন।
জানা গেছে, গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গাজী টায়ার কারখানায় লুটপাটকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে ২১ ঘন্টা পর সোমবার ৭টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান ঢাকা ফুলবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লে. কর্ণেল রেজাউল করিম। নিখোঁজদের স্বজনরা কারখানার সামনে এসে ভিড় করছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও উদ্ধারকাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিখোঁজদের স্বজনরা।
গন্ধর্বপুর এলাকা থেকে আসা লিপি আক্তার বলেন, আমার ছোট ভাই আলামিন তার বন্ধু মাহফুজের সঙ্গে গাজী টায়ার ফ্যাক্টরিতে রবিবার রাত ৯টার দিকে আসেন। এরপর থেকে তাদের আর কোন খোঁজ খবর পাওয়া যাচ্ছে না। এখনও উদ্ধার কাজ শুরু করেনি ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভবনটিতে দীর্ঘসময় ধরে আগুনের কারণে ভবনটি ধসের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ভবনের আগুন নিভে গেলেও ভেতরে ধোঁয়া ও তাপের কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনে প্রবেশ করতে পারছে না। তবে তারা পানি নিয়ে তাপ ও ধোঁয়া কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তাপ ও ধোঁয়া কমে গেলে উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।