গোমতী নদী
বুড়িচং (কুমিল্লা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৪ ২০:৫৭ পিএম
আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৪ ২১:০১ পিএম
বাঁধ রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে স্থানীয়রা। প্রবা ফটো
অতিবৃষ্টির সঙ্গে উজানের ঢলে কুমিল্লার প্রধান নদী গোমতীর বুড়িচং অংশের অন্তত ৩০টি স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধে ছুঁই ছুঁই করছে পানি। এসব স্থানের বেশ কিছু অংশ দিয়ে পানি চুইয়ে বের হচ্ছে। যা আতংকিত করেছে নদীপাড়ের অন্তত লক্ষাধিক মানুষকে।
প্রশাসন পক্ষ থেকে চলছে বাঁধ মেরামতের নানা তৎপরতা। স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে দলবদ্ধ হয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় মাটি ভর্তি করে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি দল বেঁধে দিচ্ছেন পাহারাও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগীতায় প্রভাবশালী চক্রের লোকজন অপরিকল্পিতভাবে এই এলাকা থেকে বালু উত্তোলন ও মাটি কেটে নেওয়ায় চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নদীর দুই তীরের বুড়িচং উপজেলার বাবুরবাজার, কামারখাড়া, বালিখাড়া, নানুয়ারবাজার, পূর্বহুরা, মিথিলাপুর, বুড়বুড়িয়া, শ্রীপুর, বাহেরচর, গোবিন্দপুর, কোমাল্লা, শামপুর, মনোহরপুর, আমতলী, ভান্তি, ছয়গুড়িয়া, কাইচ্চাতলী, ফরিজপুর, মিরপুর, কাঁঠালিয়া, কিংবাজেহুরা, বাজেবাহেরচর, এতবারপুর, কুসুমপুর, রামচন্দ্রপুর, হাসনাবাদ, কংশনগর এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট প্রতিরক্ষা বাঁধে পানি ছুঁইছুঁই করছে। বেশ কয়েকটি স্থানে পানি চুইয়ে বের হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওলায়িউজ্জামান বলেন, সন্ধ্যা ৭টায় নদীটির পানি বিপদসীমার ১২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ মূহুর্তে জেলা সদরের টিক্কাচর, চাঁনপুর এবং বুড়িচংয়ের কামারখাড়া এলাকায় একটি স্লুইস গেট দিয়ে বের হওয়া পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিদা আক্তার জানান, রামচন্দ্রপুর ও কিংবাজেহুরা এলাকায় প্রায় দেড় হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক আশ্রয়কেন্দ্রে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, শুকনো খাবারের ব্যবস্থাসহ বাধঁ মেরামত ও সার্বিক কাজে সেনাবাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকাবাসী, বিএনসিসি, রেডক্রিসেন্ট, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র এবং স্কাউট প্রতিনিধিরা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় জনগণের জানমাল রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন।
গোমতী নদীটি কুমিল্লার ৭টি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দাউদকান্দির সাপটায় মেঘনা নদীতে মিলিত হয়েছে। নদীটির প্রায় ১৫ কিলোমিটার অংশজুড়ে রয়েছে বুড়িচং উপজেলার অবস্থান।