রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২২ ১৮:২৬ পিএম
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২২ ২১:৩৯ পিএম
বিক্রি হওয়া শিশু উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি : প্রবা
‘না আমি আর দিব না। আমি আমার সন্তানক বুকোত পায়েছি (বুকে ফিরে পেয়েছি)। আমি যদি ভিক্ষা করে খাই, তাও আমি আমার সন্তানক কাখো (সন্তানকে কাউকে) দিব না।’ স্বামীর বিক্রি করে দেওয়া নবজাতককে ফিরে পেয়ে এ কথা বলেন রাজশাহীর এক মা।
সন্তান ফিরে পাওয়া এই মায়ের নাম জান্নতুল। তিনি জানান, শহরের লক্ষ্মীপুরে অবস্থিত বেসরকারি হাসপাতাল কেয়ার নার্সিং হোমে গত ১০ নভেম্বর তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। দুই দিন পর সেই সন্তানকে বিক্রি করে দেন তার স্বামী। বিক্রি করে তাকে জানানো হয়, তাদের সন্তান মারা গেছে। গ্রামের বাড়ি নওগাঁয় তাকে দাফন করা হয়েছে। এ নিয়ে বারবার প্রশ্ন করা হলে তাকে মারধরও করা হয়। রবিবার প্রতিবেশীরা তাকে চাপ দিলে তার স্বামী স্বীকার করেন সন্তান বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়টি। খবর পেয়ে ঘটনার ১২ দিন পর পুলিশ বিক্রি করে দেওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করেছে।
রাজশাহীর রাজপাড়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় রবিবার (২০ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটায় গোদাগাড়ী উপজেলার কাকনহাট পৌর এলাকা থেকে ওই শিশুকে উদ্ধার করা হয়।
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান।
তিনি জনান, নগরীর সিলিন্দা এলকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন দিনমজুর রহিদুল। গত ১০ নভেম্বর রহিদুল-জান্নাতুল দম্পতির সংসারে আসে কন্যাসন্তান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্ত্রীকে নবজাতকের চিকিৎসার কথা বলে অন্যত্র নিয়ে যান তার স্বামী। পরে নবজাতককে বিক্রি করে দেন তিনি। হাসপাতালের আয়া শরিফা ও মধ্যস্থতাকারী তরিকুলের মাধ্যমে প্রথমে তিনি শিশুটিকে নগরীর শামিমুন্নাহার নামে এক নারীর কাছে বিক্রি করার চেষ্টা করেন। তবে ওই নারী হলফনামা ছাড়া সন্তান নিতে রাজি না হওয়ায় শিশুটিকে গোদাগাড়ী উপজেলার কাকনহাট পৌরসভা এলাকার বিউটির কাছে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয়। এর মধ্যে ২৪ হাজার টাকা শিশুর বাবা রহিদুলকে দিয়ে বাকি ৬ হাজার টাকা তরিকুল এবং আয়া শরিফা ভাগাভাগি করে নেন।
শিশুটির বাবা রহিদুল জানান, অর্থের অভাবে তিনি নিজের শিশুকে বিক্রি করেছেন। তিনি ২৪ হাজার টাকা পেয়েছেন। যার মধ্যে থেকে ২০ হাজার টাকা তিনি হাসপাতালের বিল শোধ করেছেন এবং ওষুধ কিনেছেন।
কন্যাশিশুকে যিনি কিনেছিলেন সেই বিউটি জানান, তিনি নিঃসন্তান হওয়ায় হলফনামার মাধ্যমে শিশু দত্তক নিতে আগ্রহী ছিলেন। পরে তরিকুলের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি ৩০ হাজার টাকা দিয়ে শিশুটিকে দত্তক নেন। কেনার পর শিশুটির নাম রাখেন সাবিরা।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানায়। আমাদের প্রথম কাজ ছিল শিশুকে উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া। আমরা তা করতে পেরেছি। এখন উদ্ধার হওয়া শিশুর মা আইনগত যে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চাইবেন পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে সহযোগিতা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘটনায় ওই শিশুর বাবা রহিদুল, বিক্রির মধ্যস্থতাকারী তরিকুল, শিশুকে কেনা বিউটি এবং প্রথমে কেনা শাহানুরকে আটক করা হয়েছে।’