পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৪ ২০:৪৪ পিএম
আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৪ ২১:৪৯ পিএম
কপিলমুনির শান্তা ফিসের অফিসে হামলা চালানো হয়। প্রবা ফটো
খুলনার পাইকগাছায় পূর্বশত্রুতার জেরে ৭০০ বিঘার মৎস্য ঘেরে ভাঙচুরসহ ১০ দিন ধরে লুটপট করার অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটানো হয়।
সোমবার (১৯ আগস্ট) পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ঘের মালিক শেখ আনারুল ইসলাম এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বারুইডাংগা গ্রামের আয়ুব আলী গাজীর নেতৃত্বে শত শত লোক আমার কপিলমুনির শান্তা ফিসের অফিসে ভাঙচুর করে নগদ প্রায় ৪ লাখ টাকা লুটসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে। পরে তারা আমার মাছের ঘের দখল করতে যায়। এ সময় আমার ঘেরের পাকা কাঁচা ঘর ভাঙচুর করে। লুটপাট করে মাছ, মাছের খাবার, ছাগল, আসবাবপত্র ও নগদ টাকা। যাতে আমার আড়াই কোটির টাকার বেশি ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে।
আনারুল ইসলাম বলেন, এ সময় তারা ঘেরের কর্মচারীদের মারপিট করে ঘের থেকে তাড়িয়ে দেয়। ঘরের জানালা, দরজা, আলমারি এমনকি ভাত-পানি খাওয়ার থালা গ্লাসও নিয়ে গেছে তারা। কাঠি জাল টানা দিয়ে ১০ দিন যাবৎ ‘ফ্রি স্টাইলে’ ৩ থেকে ১৫ কেজি ওজনের ভেটকি, এক-দেড় কেজি ওজনের ভাঙ্গান মাছগুলো ধরে নিয়ে গেছে। প্রতিদিন আটন দিয়ে ২-৩’শ কেজি করে বাগদা চিংড়ি ধরে নিয়েছে। পরে সব খাতাপত্র আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় তারা।
পাইকগাছা সেনা ক্যাম্পেও একই অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ব্যাপারে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ঘেরের ম্যানেজার শাহ আলম জানান, দুষ্কৃতিকারীরা ঘেরের পাকা কাঁচাঘর ভাঙচুর করে, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এতে আমার মালিকের প্রায় আড়াই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
জানতে চাইলে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ আনারুল ইসলাম জানান, আয়ুব আলী গাজী ২০২০ সালে ৭৪ বিঘা জমি ডিডমূল্যে রেজিস্ট্রেশন করেন জমির মালিকদের কাছ থেকে। যা পরবর্তীতে ১১ লাখ ৯ হাজার টাকা নিয়ে আমাদের কাছে ডিড হস্তান্তর করেন।
এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষ আয়ুব আলী জানান, আমরা কোনো ক্ষয়ক্ষতি করিনি। তবে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে হরিলুট করেছে।