মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৪ ২১:১৫ পিএম
মিঠাপুকুরের ৮ নম্বর চেংমারী ইউনিয়ন পরিষদে তালা ঝুলিয়ে দেয় বিক্ষুদ্ধরা। প্রবা ফটো
রংপুরের মিঠাপুকুরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে বিক্ষুব্ধরা। এ সময় কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে তালাও ঝুলিয়েছে তারা।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, সরকার পতনের পর থেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ সমর্থিত এসব জনপ্রতিনিধি আত্মগোপনে রয়েছেন। বিরোধীদের কোনঠাসা করে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করায় বর্তমানে ভয়ে তারা নিজ কার্যালয়ে আসছেন না। এতে ভোগান্তি এবং হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ জনগণ। যদিও অনুপস্থিত জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, বাড়ি থেকে নিয়মিত সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা নিয়মিত কার্যালয়ে উপস্থিত হবেন।
গোপনসূত্রে জানা যায়, সরকার কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে অনুপস্থিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়ার পর আত্মগোপনে থাকা জনপ্রতিনিধিরা রবিবার (১৮ আগস্ট) সকালে নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু বিষয়টি বিভিন্ন দলের সমর্থক এবং সেবা বঞ্চিতরা জানতে পারলে জনপ্রতিনিধিদের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে সকাল থেকে বিক্ষোভ করতে থাকে। বিক্ষোভের খবর পেয়ে জনপ্রতিনিধিরা কর্মস্থলে আসেননি।
এ সময় কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং ইউপি সচিব উপস্থিত না হওয়ায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে স্থানীয়রা যুক্ত হয়ে ৭ নম্বর লতিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ, ৮ নম্বর চেংমারী ইউনিয়ন পরিষদ, ১২ নম্বর মিলনপুর ইউনিয়ন পরিষদ, ১৪ নম্বর দূর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ এবং ১৫ নম্বর বড় হযরতপুর ইউনিয়ন পরিষদে তালা লাগিয়ে দেন।
এদিকে লতিবপুর ইউনিয়নের জায়গীর বাসস্ট্যান্ডে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মালেক পদ্ম এবং তার ছেলে জিল্লুর রহমান স্বপনকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। লতিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইদ্রিস আলী মন্ডলের বাড়িতেও বিক্ষোভকারীরা পৌঁছান বলে জানা গিয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২ নম্বর রানীপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরেও হট্টগোল চলছে।
ইউপি কার্যালয়ের পরিস্থিতি এবং তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে একাধিক ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। তবে মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরু বলেন, ‘আমার অফিসে আগুন লাগায় বসার পরিবেশ নেই। আমি অফিসিয়ালি সমস্ত কার্যক্রম পালন করছি। অফিস কক্ষ ঠিক হলেই নিয়মিত দায়িত্ব পালন করা হবে।’
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেনাবাহিনীসহ পুলিশ সজাগ রয়েছে।
মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ চন্দ্র বর্মণ জানান, বিভিন্ন ইউনিয়নের সচিবরা জানিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদে জনগণ তালা লাগিয়েছে। দেখি তাদের দাবি কি? সবার সঙ্গে পরামর্শ করে জনগণের সেবা নিশ্চিত করা হবে।