ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৪ ১৬:২৫ পিএম
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদের সরকারি কোয়ার্টার। বৃহস্পতিবার তোলা। প্রবা ফটো
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি কোয়ার্টারে থেকেও সময়মতো ভাড়া দেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। মাসের পর মাস বিনা ভাড়ায় বাস করছেন সরকারি বাসায়। আবার কেউ কেউ অন্য জেলায় বদলি হলেও কোয়ার্টারের ঘর নিজ দখলে রেখেছেন। আর এসব জেনেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন এভাবে চলে এলেও নেওয়া হয়নি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা।
কোয়ার্টার বরাদ্দ-সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সদর উপজেলা পরিষদে নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)'র বাসভবন বাদে পাথরাজ, শুক, সেনুয়া ও টাংগন নামে ১৪টি দ্বিতলা বিশিষ্ট ভবন রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এই বাসাগুলোতে পরিবার-পরিজন নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে বাসা ভাড়া পরিশোধ না করার অভিযোগও রয়েছে। এবং যারা অন্য জেলায় বদলি হয়ে গেছে তারা ঘর নিজ দখলে রেখেছেন। তাদের বারবার নোটিস দেওয়ার পরেও ঘর ছাড়ছেন না। এমতাবস্থায় বেকায়দায় পড়েছেন উপজেলা কর্তৃপক্ষ।
প্রতি মাসে বাসা ভাড়া ৩ হাজার টাকা হলেও নিয়মিত কেউ ভাড়া পরিশোধ করেন না। তার মধ্যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অফিস সহকারী মো. সফিকুল ইসলামের বকেয়া রয়েছে ৭২ হাজার টাকা, মাবুদ হোসেনের ১৫ হাজার টাকা, আবু সাঈদের ১২ হাজার টাকা, বাবুল আক্তারের ৬ হাজার টাকা, মঞ্জুর আলমের ৬ হাজার টাকা, রবিউলের ১২ হাজার টাকা, বিপ্লব চন্দ্রের ৬ হাজার টাকা, রেবা খাতুনের ৯ হাজার টাকা, মফিজুর রহমানের ১৫ হাজার টাকা, মুন্নার ৬ হাজার টাকা, সাজ্জাতের ৬ হাজার টাকা, হাদীর ৯ হাজার টাকা ও জহির রায়হানের ৬ হাজার টাকা।
উপজেলা এলজিইডির সার্ভেয়ার মফিজুর রহমান পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় ও এলজিইডির কার্য-সহকারী আবু সাঈদ মো. করিম নীলফামারীর খানসামায় বদলি হলেও এখন পর্যন্ত তারা কোয়ার্টার ছাড়েননি। এ নিয়ে অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বারবার আবেদন করেও ঘর না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা পরিষদের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তারা জানান, অনেকেই বদলি হওয়ার পরেও ঘর দখলে রেখেছেন। আবার কেউ কেউ বছরের পর বছর ভাড়া পরিশোধ না করেই বসবাস করছেন।
উপজেলা প্রকৌশলীর অফিসের একটি সূত্র বলছে, অনেক আগে রেজুলেশনের মাধ্যমে গেজেটেড কোয়ার্টারের ভাড়া ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। অনেকে ঠিকমতো এই ভাড়াও দেন না বলে অভিযোগ। ফলে পরিষদ প্রতি মাসে অনেক টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের বলেন, উপজেলা কোয়ার্টারে ১৪টি পরিবার আছে। তার মধ্যে দুজন এরই মধ্যে বদলি হয়ে গেছে। যারা বদলি হয়েছে তাদের ঘর ছাড়ার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে। আর যাদের বাসা ভাড়া বকেয়া রয়েছে তাদের দ্রুত সময়ে পরিশোধ করার জন্য বলা হয়েছে। ভাড়া বকেয়া রাখলে বা ঘর না ছাড়লে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।