× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখর নরসুন্দা

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৪ ১৬:৩৩ পিএম

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৪ ১৬:৩৫ পিএম

হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখর নরসুন্দা

কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদীর মুক্তমঞ্চ ও শোভাবর্ধন প্রকল্প ততবেশি অন্যরকম আবহে উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী গুরুদয়াল সরকারি কলেজঘেঁষা নরসুন্দার পাড়ে আবার আগের মতো বিনোদন খুঁজতে মানুষ ভিড় করছে। নদী ও নদীর তীরজুড়ে গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন নির্মল বায়ুসংবলিত বিনোদনকেন্দ্র। 

২০১৪ সালে জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদীকেন্দ্রিক ‘নরসুন্দা নদী খনন ও উন্নয়ন প্রকল্প’ নেওয়ার পর  ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজে নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ থাকলেও যেটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, সেটুকুই আজ কিশোরগঞ্জবাসীর চিত্তবিনোদন ও অবসর কাটানোর একমাত্র স্পটে পরিণত হয়েছে। এখানকার অসাধারণ ওয়াকওয়ে, ৫টি দৃষ্টিকাড়া ব্রিজ, নদীর ওপর ভাসমান মুক্তমঞ্চ, আটতলা ওয়াচ টাওয়ার, শান বাঁধানো গোলাকার পুকুর, দর্শনার্থীদের বসার জন্য সিরামিকের সারি সারি বেঞ্চ, বিশ্রামশেডÑ সব মিলিয়ে আজকের নিয়ম-কানুন ও সীমাবদ্ধ সময় মেনে  কিশোরগঞ্জ ও আশপাশের মানুষ এক অন্যরকম  সৌন্দর্যের সংস্পর্শে এসে সময় কাটাচ্ছে। সেই সাথে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বিনোদনে মিলিত হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, জেলা শহরের আশপাশের দর্শনার্থীরা অপার মুগ্ধতায় অবলোকন ও আস্বাদন করেন কিশোরগঞ্জের দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য। ছাত্র-আন্দোলনের শুরু থেকে বিনোদনপিয়াসী প্রতিটি মানুষের কাছে বিনোদনের একমাত্র অবলম্বন হয়ে উঠেছে নরসুন্দার পাড়ঘেঁষা এই বিনোদনকেন্দ্র। কিছুদিন আগেও ছুটির দিনে যারা পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে যেত বিভিন্ন পার্ক বা দূর-দূরান্তে, তাদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে এই বিনোদনকেন্দ্র। এখন মানুষ সুযোগ পেলে কিংবা ছুটির দিনে নরসুন্দা পাড় ও মুক্তমঞ্চে আসে। 

প্রতিদিন গড়ে এখানে কয়েক হাজার বিনোদনপিয়াসী মানুষের সমাবেশ ঘটে। এই কেন্দ্রটি গড়ে ওঠায় শুধু সাধারণ মানুষের চিত্তবিনোদনের সুযোগই সৃষ্টি হয়নি, একই সাথে কিছু মানুষের জীবিকা নির্বাহেরও পথ সুগম হয়েছে। একশ্রেণির ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী নানা ধরনের খাবার ও খেলনাসামগ্রীর পসরা সাজিয়ে এখানে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। ফলে তাদের জীবন-জীবিকাও আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি গতিশীল হয়ে উঠেছে। শুধু তা-ই নয়। এই বিনোদনকেন্দ্রের পাশে নদীর ওপর নির্মিত মুক্তমঞ্চটি স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠনের জন্যও খুবই নির্ভরযোগ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মঞ্চে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই কোনো-না কোনো সংগঠনের মনোজ্ঞ পরিবেশনা দর্শনার্থীরা উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে স্থানীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে বেগবান করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জানা গেছে, এ বছর পহেলা বৈশাখ ও পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার দিন এই বিনোদনকেন্দ্রে কয়েক হাজার মানুষের ঢল নেমেছিল। গতকাল শুক্রবার ঘুরতে আসা স্থানীয় পৌর মহিলা কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাফিয়া আজম ইতিসহ একাধিক শিক্ষার্থী জানান, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। সবকিছু বন্ধ থাকায় দম বন্ধ হয়ে আসার অবস্থা। তাই তারা নরসুন্দা মুক্তমঞ্চে ঘুরতে এসেছেন। আসার পর এখানে বন্ধুদের সাথে আড্ডা ও চটপটি খেয়ে বেশ ভালো লাগছে। তারা বলেন, নরসুন্দা নদীকেন্দ্রিক এই বিনোদনকেন্দ্রটি তাদের আনন্দ-বিনোদনের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। অবসাদ ঘোচানোর জন্য এখানে যারাই আসে, তারাই এক অসাধারণ অনুভূতি নিয়ে ঘরে ফিরে যায়। এমন একটি অসাধারণ স্থাপনা গড়ে তোলায় তিনি সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানান।

শহরের খরমপট্টি এলাকার বাসিন্দা চাকরিজীবী নার্গিস আরা বেগম বলেন, সারা দিন কর্মক্লান্তির পর এই বিনোদনকেন্দ্রে এলে মনে নতুন কর্মস্পৃহা ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। হাজার মানুষের ভিড়ে এলে ব্যক্তিগত দুঃখবোধ বলে আর কিছুই থাকে না। তাই যখনই সময় পাই ছুটে আসি এখানে। 

ছড়াকার ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক জাহাঙ্গীর আলম জাহান বলেন, একসময় যে কিশোরগঞ্জ সবচেয়ে অনুন্নত ও পশ্চাৎপদ জনপদ হিসেবে বিবেচিত হতো, নরসুন্দার শোভাবর্ধন প্রকল্পটিকে নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে, তারই নবতর স্পর্শে এসে মানুষ বেশ আনন্দিত হয়। তিনি নরসুন্দা উন্নয়ন প্রকল্পের অনেক স্থাপনা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে অবিলম্বে সংস্কারের দাবি জানান। নরসুন্দা নদীকেন্দ্রিক উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে কিশোরগঞ্জ জেলা শহর আজ অনেকের আগ্রহের শহরে পরিণত হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এই অর্জন ধরে রাখার জন্য জনগণকেও সচেতন হতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা