ফসিয়ার রহমান, পাইকগাছা (খুলনা)
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৪ ১৭:৪৬ পিএম
খুলনার পাইকগাছায় ৩ লাখ মানুষের ভাগ্য বদলে দিয়েছে সাদা সোনা খ্যাত লবণ পানির বাগদা চিংড়ি। চিংড়ি চাষের ফলে বেকারত্ব ঘুচেছে বহুলাংশে। একই সঙ্গে দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে হাজার হাজার মেট্রিক টন চিংড়ি রপ্তানি করে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় করছে।
জানা যায়, আশির দশকে এ অঞ্চলে লবণ পানির চিংড়ি চাষ শুরু হয়। সে সময় কয়েকজন এ চাষে জড়িত ছিল। যা বর্তমানে অধিকাংশ জমির মালিক নিজ নিজ জমিতে চিংড়ি চাষ করছে। চাকরির পিছনে না ছুটে অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক চিংড়ি ঘের করে বেকারত্ব ঘুচিয়ে লাখ লাখ টাকার মালিক হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় বর্তমানে ১৭ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে লবণ পানির চিংড়ি চাষ হচ্ছে। ঘেরের সংখ্যা ছোট-বড় সাড়ে ৮ হাজার। ৭৫ হেক্টরে ২২৫টি গলদা ঘের । পুকুর রয়েছে ২৯১ হেক্টরে ২ হাজার ৫৫৮টি। এর সঙ্গে মিশ্রিতভাবে চাষ হয় ট্যাংরা, পারশে ও ভেটকিসহ হরিণা, চালি ও চাকা চিংড়ি। এ ছাড়া চাষ হচ্ছে কাঁকড়া। পাইকগাছা কাঁকড়া সমিতির সেক্রেটারি শিবপদ দেবনাথ বলেন, পাইকগাছা থেকে প্রতিদিন এক কোটি টাকার কাঁকড়া রপ্তানি করা হয়। গত বছর পাইকগাছায় ৫ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হয়। যার বাজার মূল্য প্রতি কেজি ছয়শ থেকে বারোশ টাকা। হরিণা, চালি, চাকাসহ অন্যান্য চিংড়ি উৎপাদন হয় ৬৭০ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য প্রতি কেজি ছয়শ থেকে আটশ টাকা। গলদা উৎপাদন হয় ৪২ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য প্রতি কেজি আটশ থেকে ১ হাজার টাকা। সাদা মাছ ১২ হাজার দুশ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য প্রতি কেজি ১৫০ থেকে আটশ টাকা। কাঁকড়া উৎপাদন হয় ৩ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য প্রতি কেজি তিনশ থেকে দুই হাজার টাকা।
বাগদা পোনা ব্যবসায়ী ইলিয়াস হোসেন জানান, উপজেলায় ৫টি হ্যাচারি, ৫০টি নার্সিং পয়েন্ট ও শতাধিক পোনা বিক্রয়ের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে শত শত লোক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। পাইকগাছা উপজেলা চিংড়ি চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া রিপন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে চিংড়ি চাষ উপযোগী হলেও মৌসুমের শুরুতে ঘেরে পানি তোলাসহ নানা সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চিংড়ি চাষিরা। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক জানান, চিংড়ি ও মৎস্য উৎপাদন যত বাড়ানো যাবে ততই বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন বৃদ্ধি পাবে। এজন্য মৎস্য অধিদপ্তর থেকে চাষিদের সবধরনের সহযোগিতা করা হবে।