ওবাইদুল আকবর রুবেল, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৪ ১৭:২৪ পিএম
নিজ কলাবাগানে গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষি উদ্যোক্তা মো. এখলাস। প্রবা ফটো।
দেশি জাতের বিষমুক্ত
রঙ সাগর জাতের কলা চাষের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে বেগুন ও পেঁপে চাষ করে সাড়া
ফেলেছেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চন নগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের সৌখিন
কৃষক মোহাম্মদ এখলাস।
তার বাবাও একজন কৃষক।
ফলে ছোটবেলা থেকে কৃষি সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠে তার। পরবর্তীতে ইউটিউব দেখে
অনুপ্রাণিত হয়ে বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ধুরুং খালের চরে সখের বশে পরিত্যাক্ত ৮০
শতক জমিতে রঙ সাগর জাতের কলা চাষ শুরু করেন। প্রথমে পরীক্ষামুলকভাবে চাষ করলেও পরে
৮০ শতক জমিতে বাণ্যিজিক ভাবে ৮০০ কলার চারা রোপণ করেন তিনি। এতে প্রথমবারেই ভালো
ফলন পান।
কলার আশানুরূপ ফলন
পেয়ে দারুণভাবে কৃষক এখলাসও বেশ খুশি। গত রমজান মাসে এ বাগান থেকে প্রায় ৭ ট্রাক
কলা বিক্রি করেন। যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৭ লাখ টাকার মতো। বাগানে বর্তমানে যে
কলা গাছগুলো আছে এসব সেকেন্ড জেনারেশন বা দ্বিতীয় কিস্তির। প্রতিটি কলা গাছেও ফলন এসেছে।
বর্তমানে প্রতিটি গাছেই রঙ সাগর কলার ছড়ি ধরেছে। কলা চাষের পাশাপাশি এ মৌসুমে
জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের পেঁপে চাষ করেছেন। সাথি ফসল হিসেবে জমিতে বেগুনগাছ
লাগিয়েছেন। বেগুনের ফলনও ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে বেগুনও বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন।
এদিকে, এখলাসের কলা ও
সাথী ফসল পেপে ও বেগুন চাষ এলাকার বেকার যুবকদের আগ্রহী করে তুলেছে। তার
অনুপ্রেরণায় অনেকেই কলা চাষের জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তার কাছ থেকে চারা ও
পরামর্শ নিচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে
যায়, লক্ষ্মীছড়ি- ফটিকছড়ি সীমান্তবর্তী বাইন্নেচুলা ব্রীজ সংলগ্ন ধুরুং খালের
পরিত্যক্ত চরে বিস্তৃত জমি জুড়ে কলার বাগান। সারি সারি কলা গাছে শোভা পাচ্ছে গাঢ়
সবুজ রঙের কলার ছড়ি। বাগান ঘুরতে ঘুরতে কথা হয় কলা চাষী মো. এখলাসের সঙ্গে।
তিনি জানান, বাড়ির
পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ধুরুং খালের চরে কিছু একটা করার চিন্তা থেকে কলা চাষ নিয়ে শুরু
হয় গবেষণা। ইউটিউবে ভিডিও দেখে নেমে পড়েন কলাচাষে। চরের পরিত্যক্ত উচুঁ জমিতে শুরু
করেন সাগর কলা চাষ। ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখে নিজের অভিজ্ঞতা বাড়াতে থাকেন।
চালিয়ে যেতে থাকেন বাগানের পরিচর্যা। এতে বেশ ভালো ফলন পাওয়ার পাশাপাশি দূর হয়
নিজের বেকারত্ব।
কলাচাষি এখলাস আরো
জানান, ইতোমধ্যে কলা বিক্রির আয় দিয়ে পরিশোধ করেছেন জমির মালিকের বর্গার টাকা। কলা
ও পেঁপে ১২ মাসি ফসল। একবার চাষ করলে ১২ মাসই ফলন পাওয়া যায়। প্রতি সপ্তাহে
উৎপাদিত ফসল বিক্রি করা যায়। কলা চাষে তিনি কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করেন না।
বেশির ভাগ সময় গাছে পাকা কলা বিক্রির চেষ্টা করেন। বর্তমানে তার বাগানে ৫ থেকে ৬
জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। এখন তিনি নতুন চাষিদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতে
পারছেন।
এখলাস বলেন, কলা চাষে
ঝামেলা কম, লাভও বেশি। বাজারে কলার অনেক চাহিদা রয়েছে। কলা আমার বাজারে নিয়ে
বিক্রি করতে হয়না। পাইকাররা বাগানে এসে নিয়ে যায়। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর কলার
ফলন ভাল হয়েছে। দুই থেকে তিন ফুট লম্বা কলা গাছের চারা লাগানোর অল্প দিনেই ফল
পাওয়া যায়। সাগর কলার চারা একবার রোপণ করলে পুনরায় তা আর রোপণ করতে হয় না। গাছের
কলা এক বার পূর্ণ বয়স হলে কেটে ফেলার কিছুদিন পর ওই গাছের গোড়া থেকে নতুন চারা
জন্মায়। নতুন এসব গাছে আবার ফলন দেন।
ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান বলেন, কলা একটি বছর ব্যাপি ফসল। যেটি একবার চাষ করলে বার বার ফলন দেয়। উপজেলার সুয়াবিল, নারায়ণহাট ও কাঞ্চন নগরসহ চর অধ্যুষিত এলাকায় কলার বেশ চাষ হয়। কাঞ্চন নগর ইউনিয়নের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা এখলাসের হাত ধরে অত্র অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে সাগর কলার চাষ শুরু হয়েছে। তার কলাবাগান বেকার যুবকদের প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।