খুলনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৪ ২০:২৯ পিএম
আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৪ ২১:৪১ পিএম
খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহবুবুর রহমান। প্রবা ফটো
খুলনা জেলা পরিষদে অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি রাশেদ নিজামকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মাহবুবুর রহমান সাংবাদিক রাশেদ নিজাম ও তার ক্যামেরাপারসনের ওপর চড়াও হন। এ সময় রাশেদ নিজামকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
সোমবার (৮ জুলাই) দুপুরে খুলনার কেডি ঘোষ রোডে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মাহবুবুর রহমানের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ এবং খুলনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাশেদ নিজাম।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহবুবুর রহমান। আর ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজা রশিদ।
যমুনা টিভির সাংবাদিক রাশেদ নিজামের অভিযোগ, ‘খুলনার চুকনগরে জেলা পরিষদের জায়গায় মার্কেট নির্মাণ হচ্ছে। সেখানে দোকান বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আছে। এ অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মাহবুবুর রহমান জড়িত আছে মর্মে জানতে পারি। আমি ক্যামেরাম্যানসহ আজ (সোমবার) দুপুর ১২টার দিকে জেলা পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে সাক্ষাৎকার নিতে যাই। এ সময় তিনি (এসএম মাহবুবুর রহমান) হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে আমাকে এবং আমার ক্যামেরাম্যানকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বের করে দেন এবং ক্যামেরার মেমোরি কার্ড ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।’
অভিযোগে তিনি আরও বলেন, ‘এ সময় প্রশাসনিক কর্মকর্তা অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন এবং আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি এবং আমার টিমের লোকজন সামাজিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
এ ঘটনার সঠিক তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান অভিযোগকারী রাশেদ নিজাম।
তবে খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মাহবুবুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তার অফিস কক্ষে সাংবাদিককে লাঞ্ছিতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
তিনি বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, কসম দিয়ে বলছি এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যমুনা টিভির সাংবাদিকরা নেগেটিভলি আমাদের বিরুদ্ধে আসছে। তাই তারা একটা মিথ্যা কথা বলে পজিশন ক্রিয়েট করার চেষ্টা করছে।’
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে এ বিষয়ে খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান র্নিবাহী কর্মকর্তা মো. রেজা রশিদ বলেন, বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।