নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৪ ২০:৫৫ পিএম
নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে মারুফ মিয়ার মরদেহ। প্রবা ফটো
নরসিংদীর শিবপুরে প্রকাশ্যে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা।
রবিবার (৭ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা সদরে ধিরা ঘোষের বাড়িতে এই হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত মারুফ মিয়া উপজেলার সৈয়দেরগাঁও এলাকার মৃত মোশাররফ মিয়ার ছেলে।
শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কিশোর গ্যাং আলী ও সৈকত গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ গত ৪ এপ্রিল দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সৈকত গ্রুপের প্রধান সৈকত আহত হয়। এই ঘটনায় করা মামলায় আলী গ্রুপের মারুফ মিয়া ছিল ২ নম্বর আসামি। রবিবার সকালে মারুফ সদর সড়কের ধিরা ঘোষের বাড়িতে অবস্থান করছে এমন সংবাদে সৈকত গ্রুপের সদস্যরা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ সেখানে গিয়ে মারুফকে না পেয়ে ফিরে আসে। পরে সৈকত গ্রুপের লোকজন ধারাল অস্ত্র নিয়ে সেই বাড়িতে হানা দিয়ে মারুফকে পেয়ে যায় এবং তার উপর হামলা চালায়। এ সময় মারুফকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। খবর পেয়ে মারুফের স্বজনরা ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মারুফ মিয়ার বোন বৃষ্টি বেগম বলেন, আমার মোবাইলে খবর আসে মারুককে সৈকতের লোকজন আটকিয়ে কোপাচ্ছে। আমি দৌড়ে সেখানে গিয়ে দেখি তারা আমার ভাইকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপাচ্ছে। আমি বাঁধা দিতে গেলে বলে, ভাইয়ের জন্য দরদ বেশি। ওই সময় তারা আমাকে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে, ‘ভাইয়ের জন্য দরদ বেশি নাকি নিজের জীবনের জন্য।’ পরে আমার ব্যাগে থাকা বাবার পেনশনের ৪ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা।
নিহতের ভাই মাহফুজ মিয়া বলেন, সৈকত গ্রুপের ৩০ থেকে ৩৫ জন লোক আমার ভাইয়ের উপর হামলা করে। তারা আমার ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।
শিবপুরে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত নতুন নয়। তারা পান থেকে চুন খসলেই মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে শিবপুরে মহড়া দেয়। স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাদের অংশগ্রহণ নিয়মিত। তাদের মধ্যে বিরোধের জের ধরে ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল আলী গ্রুপের কিশোর সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে শেখ রাসেল শিশু-কিশোর স্মৃতি সংসদের শিবপুর পৌরসভা শাখার সভাপতি নাঈম মিয়াকে। এ ঘটনার পর কিছুদিন কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসীরা নিরব থাকলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মদদে তারা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে দাবি করছেন সচেতন মহলের লোকজন।
শিবপুরের সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বলেন, আমি জেলা ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে কিশোর গ্যাং নিমূলের দাবি জানিয়েছি। তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের মাধ্যমে সমাজকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের কোন দল নেই। আমি শিবপুর থেকে কিশোর গ্যাং নির্মূল চাই।
শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন বলেন, পুলিশ গিয়েছিল সত্য, তবে তখন মারুফকে পায়নি। পরে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত মারুফও সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তার বিরুদ্ধে থানায় দুটি হত্যা চেষ্টার মামলা রয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অনেকের ছত্তছায়ায় থেকে অপকর্ম করছে। এখন শিবপুরের রাজনৈতিক নেতাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি চায়। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া কিশোর গ্যাং নির্মূল সম্ভব নয়।