শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলা
মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৪ ২০:০৯ পিএম
কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় নৃশংস জঙ্গি হামলার আট বছর পূর্ণ হয়েছে রবিবার ( ৭ জুলাই)। ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের জামাতের আগে এই হামলায় দুই পুলিশ সদস্যসহ এক নারী নিহত হন। পুলিশের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগে সেদিন বেঁচে যায় অসংখ্য মানুষের জীবন।
জঙ্গি হামলার অষ্টম বছর পূর্তিতে আত্মোৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যসহ নিহত ব্যক্তিদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে জেলা পুলিশ। রবিবার সকালে ঘটনাস্থল সংলগ্ন আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে স্থাপিত বেদিতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ এ শ্রদ্ধা জানান।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ আফজল, পৌর মেয়র পারভেজ মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মোস্তাক সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ নূরে আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আল আমিন হোসাইন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হোসেনপুর সার্কেল) সুজন চন্দ্র সরকার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু রাসেল, সদর মডেল থানার ওসি গোলাম মোস্তফা, সিনিয়র সাংবাদিক সাইফুল হক মোল্লা দুলু প্রমুখ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।
এ ছাড়া পৃথকভাবে শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি মায়া ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক আতিয়া হোসেন, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাছুমা আক্তার, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিলকিস বেগম প্রমুখ।
পরে জেলা পুলিশ স্মরণসভার আয়োজন করে। স্মরণসভায় জঙ্গিদের ভয়াবহ হামলা ও পুলিশের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বক্তারা। সভা শেষে গৃহবধূ ঝরনা রানী ভৌমিকের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ছিল ঈদুল ফিতরের দিন। ওই দিন নামাজ শুরুর আগমুহূর্তে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অদূরে আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছে পুলিশের তল্লাশির সময় জঙ্গিরা গ্রেনেড হামলা করে। জঙ্গিদের চাপাতির কোপে দুই পুলিশ কনস্টেবল আনছারুল হক ও জহিরুল ইসলাম মারা যান। আহত হন আরও ১২ জন। পরে জঙ্গিরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে জঙ্গি আবির রহমান মারা যান। আর উভয়পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে মারা যান এলাকার গৃহবধূ ঝরনা রানী ভৌমিক। এ সময় আটক করা হয় জঙ্গি শফিউল ও স্থানীয় তরুণ জাহিদুল ইসলাম ওরফে তানিমকে। পরে একই বছরের ৪ আগস্ট ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ডাংরি এলাকায় র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শফিউল নিহত হন।
ঘটনার তিন দিন পর ১০ জুলাই তৎকালীন পাকুন্দিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার মোট ২৪ আসামির মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্দুকযুদ্ধে শফিউলসহ মারা যান ১৯ জন। মারা যাওয়া আসামিদের বাদ দিয়ে পুলিশ ২০১৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আদালতে পাঁচজনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এই পাঁচজন দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি।
জঙ্গি হামলায় নিহত গৃহবধূ ঝরনা রানী ভৌমিকের স্বামী গৌরাঙ্গনাথ ভৌমিক স্ত্রী হত্যার বিচার দেখে যেতে পারেননি। অসুস্থ অবস্থায় গত ১৮ জুন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান বলে জানান তার মামাতো ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মাধব গোবিন্দ দাস। এখন তাদের দুই ছেলে বাসুদেব ভৌমিক ও শুভদেব ভৌমিক মায়ের হত্যার বিচার দেখার অপেক্ষায়।
সেই সময় শুভদেব ভৌমিক ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। বর্তমানে সে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষে পড়ছে। আর বাসুদেব ভৌমিকের সরকারের উদ্যোগে একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা বলেন, বিচার দেখার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে বাবা মারা গেছেন। এখন আমরা মায়ের করুণ মৃত্যুর বিচার দেখার অপেক্ষায় আছি।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ বলেন, ‘শোলাকিয়া জঙ্গি হামলা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে। মামলার ১০১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬০ জন সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে প্রত্যাশা।