সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৪ ১৯:৫৩ পিএম
আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৪ ২০:৩২ পিএম
অবশেষে আলোর মুখ দেখছে বহুল কাঙ্ক্ষিত নতুন কালুরঘাট সেতু প্রকল্প। নতুন ডিপিপি অনুযায়ী, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১১ হাজার কোটি টাকা। ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গফুটের কালুরঘাট সেতুর উচ্চতা হবে ১২ দশমিক ২ মিটার। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ডিপিপি প্ল্যানিং কমিশন থেকে একনেকে গেছে। সেখান থেকে অনুমোদনের পর প্রকল্প বাস্তবায়নকাজ শুরু হবে।
এ প্রসঙ্গে কালুরঘাট সেতুর ফোকাল পারসন ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) মো. গোলাম মোস্তফা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রকল্পের নতুন নকশা অনুযায়ী কালুরঘাট সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ১ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার। ১২ দশমিক ২ মিটার উচ্চতার মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৭০০ মিটার। আর মূল সেতুর প্রস্থ ৭০ ফুট। এর মধ্যে ৫০ ফুট হবে ডুয়েল গেজ ট্র্যাক। বাকি ২০ ফুটের মধ্যে দুই লেনের সড়কপথ তৈরি করা হবে। বিদ্যমান পুরোনো কালুরঘাট সেতুর ৭০ মিটার উজানে নতুন এই কালুরঘাট সেতুটি নির্মিত হবে। ’
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্যানুযায়ী, ‘বাংলাদেশ কনস্ট্রাকশন অব রেলওয়ে কাম রোড ব্রিজ অ্যাক্রোস দ্য রিভার কর্ণফুলী অ্যাট কালুরঘাট পয়েন্ট’ শীর্ষক প্রকল্পটি অর্থায়নের জন্য গত ২৭ জুন বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইডিসিএফ তহবিল থেকে ৭২ কোটি ৪৭ লাখ ডলার এবং ইডিপিএফ তহবিল থেকে ৯ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ। ইআরডির সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ুন চুক্তি দুটিতে সই করেন।
গত শনিবার রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে শুদ্ধাচার কৌশল বিষয়ক অংশীজন সভায় যোগ দেন রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবির। এ সময় কালুরঘাট সেতু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরে নতুন কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। আমরা আশা করছি, সব প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী ডিসেম্বরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কালুরঘাট সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ইতোমধ্যে কালুরঘাট সেতু নির্মাণে কোরিয়ার সঙ্গে ঋণচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন ও দরপত্র প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হবে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম ‘শতবর্ষী’ কালুরঘাট সেতুকে ২০০১ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। এর এক যুগ পর ২০১৩ সালে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কর্ণফুলী নদীতে নতুন কালুরঘাট সেতু নির্মাণে ডিপিপি তৈরি করে। কিন্তু স্থানীয়রা নির্মিতব্য এই রেল সেতুর সঙ্গে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা রাখার দাবিতে আন্দোলনে নামে। এতে পাঁচ বছর প্রকল্পটি থমকে থাকার পর ২০১৮ সালে নতুন কালুরঘাট সেতু নির্মাণে ১ হাজার ১৬৩ কোটি ২৭ লাখ টাকার ডিপিপি চূড়ান্ত করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তখন সেতুর দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছিল তিন কিলোমিটার। আর সেতুর উচ্চতা ধরা হয়েছিল সাত দশমিক ৬২ মিটার। কিন্তু বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কালুরঘাট সেতু দ্বিতীয় শ্রেণির নৌপথ হিসেবে উচ্চতা (ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স) ১২ দশমিক ২ মিটার বেঁধে দিলে নতুন নকশা তৈরিতে নামে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, ২০১৮ সালের প্রথম ডিপিপিতে নতুন এই কালুরঘাট সেতু নির্মাণে ১ হাজার ১৬৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ হলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকায়। নতুন ডিপিপি অনুসারে সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৯৯১ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে দেশে ডলারের দাম ১১৭ টাকা হিসেবে সর্বমোট ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হবে।