সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৪ ১৬:৫৩ পিএম
আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৪ ১৭:২৩ পিএম
চালক ও হেলপারকে অপহরণ করে চাঁদা দাবির মামলায় পাঁচজনকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছবি : সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ২৫২ বস্তা পেঁয়াজ লুট, ট্রাকের চালক ও হেলপারকে অপহরণ ও চাঁদা দাবির দায়ে পুলিশের এসআই-এএসআইসহ পাঁচজনকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে আলাদা দুটি ধারায় ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা না দিলে তাদের আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বুধবার (৩ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ এম আলী আহমেদ এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—কাজীপুর উপজেলার নাটুপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মাইনুল হাসান ও সলঙ্গা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মতিউর রহমান খান, সলঙ্গা থানার পাটধারী গ্রামের রেজাউল করিম ওরফে রনি, হাসানপুর গ্রামের সবুজ আলী ও বাগুন্দা গ্রামের চালক আনিস। সদর উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের সাব্বির আলম ওরফে সবুজ।
রায়ে সাব্বির আলম ওরফে সবুজকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সাব্বির আলম ছাড়া বাকিরা পলাতক রয়েছেন। মামলার অপর অভিযুক্ত মিন্টু ও মনসুর আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি আব্দুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথির বরাতে তিনি জানান, ২০১৭ সালের ১০ জুলাই রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ বন্দর থেকে ২৫২ বস্তা ভারতীয় পেঁয়াজ নিয়ে একটি ট্রাকে করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন চালক মোরশেদ আলী ও হেলপার রবিউল। ট্রাকটি সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার র্যাব-১২-এর কার্যালয়ের সামনে সমবায় পেট্রোল পাম্পে টয়লেট ব্যবহারের জন্য থামালে পুলিশ সদস্য পরিচয়ে ট্রাকের চালক ও হেলপারকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে অপহরণ করা হয়। পরে ট্রাকের চালক ও হেলপারকে অজ্ঞাতপরিচয় স্থানে আটক রেখে ট্রাকের মালিকের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন অভিযুক্তরা।
এ ঘটনায় ট্রাকের মালিক মজিবুর রহমান সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার নাটুপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মাইনুল হাসান, সলঙ্গা থানার এএসআই মতিউর রহমান খানসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ জমা দেয়।
মামলা চলাকালে ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ বুধবার আদালত পাঁচজনকে ৩৬৫ ধারায় সাত বছর এবং ৩৯২ ধারায় ১৪ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করেন। এ ছাড়া আসামি সাব্বির আলম ওরফে সবুজকে দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।