মরদেহ দাফনে বাধা
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৪ ১৭:৫৯ পিএম
আপডেট : ৩০ জুন ২০২৪ ১৮:২৩ পিএম
সাপের কাপড়ে নিহত যুবককে বাঁচানোর কথা বলে ওঝার আয়োজন। প্রবা ফটো
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় বিলে মাছ শিকার করতে গিয়ে বিষধর সাপের দংশনের শিকার হন সাইফুল ইসলাম। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মরদেহ বাড়িতে আনা হলে সেখানে উপস্থিত হন এক ওঝা। তিনি রীতিমতো সিনেমার আদলে বিশাল যজ্ঞ চালিয়ে সাইফুলকে ‘বাঁচানোর আয়োজন’ সাজান। অবিশ্বাস্য আশ্বাস দিয়ে নির্ধারিত সময়ে জানাজা আদায় ও মরদেহ দাফনেও বাধা দেন। দীর্ঘ সময় সুঃসাধ্য অপচেষ্টা চালানোর পর অবশেষে প্রলোভন দেখিয়ে সাইফুলের পরিবারের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান ওই ওঝা।
উপজেলার পশ্চিম বাসুরা এলাকায় এসব ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার রাত ১০টার পর থেকে গতকাল শনিবার দিবাগত রাত পর্যন্ত। রাত দুইটার দিকে পরিবারের সদস্যরা সাইফুলের মরদেহ দাফন করেছেন। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কাউকে সাপে কাপড় দিলে, ওঝা কিংবা কবিরাজের ঝাড়ফুঁক দিয়ে কখনও চিকিৎসা সম্ভব নয়। সাপে দংশ করলে যত দ্রুত সম্ভব, কাছের হাসপাতালে নিয়ে বিষ নিধন ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে টেঁটা দিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে সাপড়ে কাপড় খেয়ে বাড়িতে এসে পরিবারকে বলেন। তারা সাইফুলকে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যান। সেখান থেকে পাঠানো হয় মির্জাপুরে কুমুদিনি হাসপাতালে। সেখানে বিষ নিধনে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের কিছুক্ষণের মধ্যে ভোররাত ৪টার দিকে সাইফুলের মৃত্যু হয়। বাড়িতে এনে দুপুরে তার মরদেহ দাফনের প্রস্ততি নেয় পরিবার। এর কিছুক্ষণ আগেই সেখানে উপস্থিত হন ওই ওঝা। সাইফুলকে বাঁচানোর কথা বলে স্থানীয় খেলার মাঠে বিশাল আয়োজন করে চলে ঝাড়ফুঁক। সেখানে জড়ো হন হাজারও উৎসুক মানুষ। এভাবে চলতে চলতে রাত ১১টা বেজে যায়। পরে কিছু সরঞ্জাম প্রয়োজন জানিয়ে সাইফুলের পরিবারের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে চলে যান ওঝা। রাত দুইটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও ওঝা ফিরে না আসায় সাইফুলের মরদেহ দাফন করা হয়।
নিহত সাইফুল ইসলামের বড় ভাই আলী হোসেন জানান, পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে সাইফুল ইসলামের জানাজা ও দাফন কাফনের ব্যবস্থা করেন। এ সময় সাভার থেকে এক ওঝা এসে তার দাফন-কাফনে বাধা দিয়ে ঝাড়ফুঁক দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। নানাভাবে চেষ্টা করে ওঝা ব্যর্থ হয়ে বিকালে আরও কিছু সরঞ্জাম লাগবে বলে রাত ১১টায় ফিরে আসার কথা বলে চলে যায়। পরে সেই ওঝা আর ফিরে না আসায় রাত দুইটায় সাইফুলের মরদেহ দাফন করা হয়।
এ প্রসঙ্গে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, সাপে কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ ছাড়া বাঁচানো সম্ভব নয়। ঝাড়ফুঁক দিয়ে কখনও কোনো চিকিৎসা হয় না। সাপে কাটা রোগীকে যত দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া যায় তত উত্তম।
সাপে দংশন সম্পর্কে মানুষ যে কুসংস্কার লালন করছে– এ ব্যাপারে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউসার আহম্মেদ বলেন, ‘কুসংস্কার কিংবা ভ্রান্ত ধারণা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সাপে কাটা রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।’