কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিবেদেক
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৪ ১০:৪৭ এএম
ধলাই নদের ভেঙে যাওয়া প্রতিরক্ষা বাঁধ সংস্কারে টিলা কেটে মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের বড়চেক এলাকা। প্রবা ফটো
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদের ভেঙে যাওয়া প্রতিরক্ষা বাঁধ সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের বড়চেক এলাকায় টিলার মাটি (লাল মাটি) কেটে বাঁধ সংস্কারের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বাঁধের প্রস্থ নিয়েও এলাকাবাসী করছেন নানা অভিযোগ। শুধু টিলার মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণের ফলে যেকোনো সময় ধসে যেতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
স্থানীয় ও পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জুন ধলাই নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে রহিমপুর ইউনিয়নের বড়চেক এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এতে কয়েকটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। পরে আপদকালীন জরুরি মেরামতের আওতায় মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফেনী ইউনাইটেড কনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে ভেঙে যাওয়া বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করে। কিন্তু কাজের শুরুতেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ম্যানেজ করে তিন ধরনের মাটির পরিবর্তে মাটি না কিনে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি টিলার মাটি (লাল মাটি) কেটে সেই মাটি দিয়েই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁধ মেরামতে কাজ করছেন দুইজন শ্রমিক। বাঁধের তিন কিলোমিটার দূর থেকে ট্রাকে টিলার লাল মাটি এনে ফেলা হচ্ছে ভেঙে যাওয়া স্থানে। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করে বলেন, বারবার এ বাঁধে কাজ হয়, কিন্তু অনিয়মের কারণে ফের বাঁধ ভেঙে যায়। এবারও বাঁধে নিম্নমানের কাজ হচ্ছে। বাঁধের প্রস্থ ৫-৬ ফুট করা হয়েছে, দেখার কেউ নেই। এখন টিলা কেটে মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করলে তা কত দিন টিকবে।
কাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না দাবি করে ঠিকাদার হারুন আহমেদ বলেন, ‘আশপাশে মাটি না পাওয়ায় টিলা কেটে কিছু মাটি আনা হয়েছিল। এখন তা বন্ধ করে কৃষিজমির মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত মাটি না পাওয়ায় আপাতত বাঁধরক্ষায় ৫ ফুট প্রস্থ মাটি ভরাট হয়েছে। কাজ সম্পন্ন করার আগে প্রস্থ বাড়বে।’
বাঁধের কাজের দায়িত্বে থাকা পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহিম জানান, বাঁধ সংস্কারের কাজ এখনও শেষ হয়নি। টিলা কেটে মাটি আনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কাজের ওয়ার্ক অর্ডার আমার হাতে নেই।’
পাউবো মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, ঠিকাদারের কোনোভাবেই টিলা কেটে মাটি ব্যবহার করার সুযোগ নেই। বিষয়টি জেনে বাঁধ সংস্কারে টিলা কেটে মাটি ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে।