সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৪ ১৮:১৪ পিএম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে হরিপুর ইউনিয়নের কানি-চরিতাবাড়ি গ্রাম। প্রবা ফটো
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে ছয় শতাধিক পরিবার। ভাঙন অব্যাহত থাকায় হুমকির মুখে পড়েছে আরও হাজার হাজার পরিবারের বসতভিটা, আবাদি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশ্রয়ণকেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
জানা গেছে, নদীভাঙন ও পানিবন্দি তারাপুরে ৫০, বেলকায় ১০০, হরিপুরে ৩০০ ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ১০৫০টি ঘরবাড়িসহ ৬০০ পরিবারকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। গৃহপালিত পশুপাখি, শিশু-নারী, বয়োবৃদ্ধসহ পরিবারের আসবাবপত্র নিয়ে পানিবন্দি ও ভাঙনকবলিত এসব পরিবারের মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। কেউ কেউ নদীরক্ষা বাঁধ, পার্শবর্তী স্বজনদের বাড়ি, প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে।
তারাপুর ইউনিয়নের লাটশালা ও খোর্দ্দার চরে ৫০টি, বেলকা ইউনিয়নের কয়েকটি চরে ১০০, হরিপুর ইউনিয়নের কানি-চরিতাবাড়ি, চর-মাদারীপাড়া, রাঘব, মাদারীপাড়াসহ কয়েকটি স্থানে ৩০০ ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের কেরানীরচর, ভাটী-কাপাসিয়া, উজান বুড়াইল, বাদামেরচরসহ কয়েকটি চরের ১০০টিসহ মোট ৬০০ পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত করে পরিবারপ্রতি ৫০০ টাকা করে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা আরও বেশি বলে নদীবেষ্টিত এসব ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানরা দাবি করেছেন।
শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ইউনিয়নের বাবুর বাজারের পূর্বদিকে উত্তর শ্রীপুর ও পোড়ারচরে তিস্তা নদীর ভাঙনের কবলে ও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বেশ কিছু পরিবার।’
কাপাসিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া বলেন, ‘তিস্তা নদীবেষ্টিত এ ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে তীব্র ভাঙন দেখা দেওয়ায় মানুষ বিপাকে পড়েছে।’
হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ মোজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এ ইউনিয়নের বেশিরভাগ জায়গা তিস্তা নদীর বিভিন্ন চরে অবস্থিত। নদীভাঙন ও পানিবন্দি হয়ে পড়া মানুষ চরম হতাশার মধ্যে আছে।’
বেলকা ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ্ বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও পানিবন্দি হয়ে পড়া অবধারিত। ইউনিয়নের অধিকাংশ তথা ৯০ শতাংশ ভূখণ্ডই তিস্তা নদীবেষ্টিত।’
তারাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এ ইউনিয়নের লাটশালার চর ও খোর্দ্দার চরের কয়েকটি ওয়ার্ড তিস্তা নদীবেষ্টিত।’
চণ্ডিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী মোস্তফা মাসুম বলেন, ‘উজানে অবস্থিত হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর খেয়াঘাট ভাঙনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে উজান বোচাগাড়ি মৌজায় অবস্থিত। ওই খেয়াঘাট থেকে কামারেরভিটা নামক স্থান পর্যন্ত কয়েকটি পাড়ার কয়েকশ পরিবারের বসতভিটা, আবাদি জমি তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়েছে। এবারও ভাঙন ও পানিবন্দি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
কঞ্চিবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ মানোয়ার আলম সরকার বলেন, ‘উত্তর কালির খামার গ্রামের একটা অংশ তিস্তার পাশে অবস্থিত। প্রতিবছর বন্যায় ওই পাড়ায় ভাঙন ও পানিবন্দি হয়ে পড়ে কয়েকশ পরিবার। এবারও দুটি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আর এ স্থানে বরাবরই পানিবন্দি হয় কমপক্ষে ৫০০ পরিবার।’
শান্তিরাম ইউপি চেয়ারম্যান এবিএম মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ইউনিয়নের পূর্ব-শান্তিরাম গ্রামের ঝগড়ার চরে তিন শতাধিক পরিবার তিস্তা নদীর পাশে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিবছর পানিবন্দি ও ভাঙনের কবলে পড়ে।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওয়ালিফ মণ্ডল বলেন, ‘ভাঙনকবলিত ৬০০ পরিবারে জরুরি ভিত্তিতে ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। তাদের সহযোগিতার জন্য বরাদ্দ চেয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙনকবলিত স্থানগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে তাৎক্ষণিকভাবে তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে কিছু পরিবারে টর্চলাইট দেওয়া হয়েছে। দুর্গত পরিবারগুলোর জন্য ত্রাণ তৎপরতা বাড়াতে বরাদ্দ চেয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।’