সিলেট অফিস
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৪ ২০:০৫ পিএম
সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার মেয়র মুহিবুর রহমান।
নানা অনিয়মের অভিযোগে সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার মেয়র মুহিবুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. আব্দুর রহমান সই করা এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, বিশ্বনাথ পৌরসভার মেয়র মুহিবুর রহমানের বিরুদ্ধে পৌর পরিষদের মাসিক সাধারণ সভা তার নিজ বাসভবনে অনুষ্ঠান করা, শহর সমন্বয় কমিটির সভা না করা, মাসিক সভার কার্যবিবরণীর কপি কাউন্সিলরদের না দেওয়া, পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (ল্যান্ড ফিল্ড) স্থাপনা না করে শহরের প্রাণকেন্দ্র প্রবাসী চত্ত্বরের পাশে জনগুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ডাম্পিং করা, বিশ্বনাথবাসীর প্রাণ বলে খ্যাত বাসিয়া নদী পরিষ্কার না করে সেখানেও ময়লা-আবর্জনা ডাম্পিং করা সংক্রান্ত আনীত অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
এ ছাড়াও তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক অনুমতি ব্যতিরেকে গত ২৪ জুন যুক্তরাজ্য গমন করেন। মেয়র মুহিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ (১) (খ) (ঘ) এবং (২) অনুযায়ী তাকে মেয়র পদ হতে অপসারণের কার্যক্রম শুরু এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ২ নভেম্বর বিশ্বনাথ পৌরসভার মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন মুহিবুর রহমান। এর আগে তিনি বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। পৌর মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পরই পৌর পরিষদে দেখা দেয় অর্ন্তকোন্দল। এক পর্যায়ে জনসম্মুখে আসে কোন্দলের বিষয়টি। উত্তেজনা আর পাল্টাপাল্টি মামলায় গড়ায় কোন্দল।
গত ২৮ এপ্রিল বিকাল তিনটার দিকে পৌরসভার নতুন বাজার এলাকায় পৌর মেয়র মুহিবুর রহমান ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর রাসনা বেগমের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পথচারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ সময় উভয় পক্ষের সমর্থকরা সিএনজিচালিত কয়েকটি অটোরিকশা ও দোকানপাট ভাঙচুর করেন। এর আগে উভয় পক্ষের লোকজন একই এলাকায় প্রায় ১০০ গজের ভেতরে পাল্টাপাল্টি প্রতিবাদ সভা ডাকেন। ওই সভা ঘিরে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরই জেরে সমাবেশ শুরুর আগে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার আগে ২৩ এপ্রিল পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মিরেরচর এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে একইভাবে উত্তেজনা দেখা দেয়।
এসব কোন্দল ঘিরে মুহিবুর রহমানের বিরুদ্ধে পরিষদের ৭ কাউন্সিলর অনাস্থা প্রস্তাব আনেন এবং এক নারী কাউন্সিলর বাদি হয়ে থানায় মামলা করেন। এতে মুহিবুরসহ ৮ জনকে আসামি করা হয়। পরে মেয়র মুহিবুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে সমর্থন ও পৌরসভার দুই কাউন্সিলরের চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন।
নিজেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার দাবি করে সার্বিক বিষয়ে মুহিবুর রহমান জানান, তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছে। পৌরসভার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাকে নানাভাবে বাধাগ্রস্থ করছে মহলটি। রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার লক্ষে অন্যায় ও বেআইনিভাবে তাকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণে মেতে উঠেছে। কোনো অবস্থাতেই তাদের অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হতে দেওয়া যাবে না। শিগগিরই আইনের আশ্রয় গ্রহণ করবেন তিনি।