খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৪ ১৯:৩৯ পিএম
আপডেট : ২৪ জুন ২০২৪ ২০:২৬ পিএম
খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফাইল ফটো
গত এক সপ্তাহ ধরে উত্তরের জেলা দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় হঠাৎ বেড়েছে জ্বর, গলাব্যথা কাশি ও সর্দি রোগীর সংখ্যা। উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতে এখন জ্বরের রোগী। প্রতিনিয়ত হাসপাতালে আসছেন এসব রোগী। শয্যা সংকটে হাসপাতালের মেঝেতেও চলছে চিকিৎসাসেবা। সেইসঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন ফার্মেসিতে প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধ সংকটের খবর পাওয়া গেছে।
চলমান বিরূপ আবহাওয়ার কারণে এ সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া, সুতি কাপড় পরা এবং বেশি বেশি পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সোমবার (২৪ জুন) দুপুরে সরেজমিনে পাকেরহাটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মূল গেট দিয়ে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, জরুরি বিভাগ ও আউটডোরে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ঘুরে দেখা যায়, পুরুষ, মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের বেডগুলো রোগী দিয়ে পূর্ণ। সেইসঙ্গে বারান্দা ও মেঝেতেও রোগী ভর্তি আছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৪ জুন) দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১০২ জন। এর মধ্যে জ্বর-কাশির রোগী প্রায় ৭০ জন। ঈদের দিন থেকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে রোগীর সংখ্যা। গত এক সপ্তাহ প্রায় ৫০০ জনের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৩০০ জন জ্বরের রোগী। এ ছাড়াও প্রতিদিন জরুরি বিভাগ ও ইনডোরে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন প্রায় ৩০০ রোগী। এর মধ্যে অধিকাংশ জ্বর, সর্দি, কাশি ও ব্যথার রোগী।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, গত ২০২১ সালের জুলাই মাসে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নতীকরণসহ সেবা কার্যক্রম চালুর প্রশাসনিক অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু এতদিনেও জনবল ও বরাদ্দ পায়নি। বর্তমানে ৩১ শয্যারই জনবল সংকট। এই সংকটের মধ্যেও সেবা দিচ্ছেন তারা।
জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে গোয়ালডিহি গ্রামের লাবিব (৫) হাসপাতালের বারান্দায় ভর্তি রয়েছেন। তার অভিভাবক হালিমা খাতুন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে আমার ছেলের জ্বর-সর্দি এতে প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও কমেনি। তাই হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি।
সর্দি-জ্বর চিকিৎসার জন্য পাকেরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন গুলিয়ারা গ্রামের মিনতি রায় (৪০)। তিনি বলেন, হঠাৎ জ্বর ও শরীর ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে এলে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছেন। তাই বেড ফাঁকা না থাকায় মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছি।
পাকেরহাট এএফআর মেডিসিন মার্টের স্বত্বাধিকারী বখতিয়ার উদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ঈদের ছুটি ও গত সপ্তাহ থেকে জ্বরের রোগী বাড়ায় বাজারে কিছু কোম্পানির প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধ সংকট আছে। তবে এটি ২-১ দিনে স্বাভাবিক হবে বলে কোম্পানির বরাত দিয়ে তিনি নিশ্চিত করেছেন। কোম্পানি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের দাম বাড়িয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শামসুদ্দোহা মুকুল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ভাইরাস ও আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত কারণে জ্বর ও কাশির রোগী বেড়েছে। এতে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। কেউ এমন রোগে আক্রান্ত হলে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
হাসপাতালের জনবল ও বরাদ্দ সংকটের বিষয়ে তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এই অবস্থায় সেবা গ্রহণে সবার সহযোগিতা চান তিনি।