আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৪ ১৬:০৩ পিএম
আপডেট : ১৮ জুন ২০২৪ ১৬:৫৮ পিএম
প্রতীকী ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কোরবানির গরু নিয়ে উপহাসের কারণ জানতে চাওয়ায় এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই প্রতিবেশী এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সোমবার (১৭ জুন) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী আখাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত বৃদ্ধ আবুল হোসেন উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রুটি গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা। অভিযুক্ত আইনজীবী রুবেল মিয়া একই গ্রামের বাসিন্দা সামাদ মিয়ার ছেলে।
জানা গেছে, গতকাল রবিবার নিহত আবুল হোসেন ও তার স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও এক ভাইকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এর আগে প্রায় ১২ বছর আগে বৃদ্ধ আবুল হোসেনের বাম পা ও বাম হাত ভেঙে দিয়েছিল অভিযুক্ত আইনজীবীর পরিবারের সদস্যরা।
নিহত আবুল হোসেনের বড় মেয়ে পাখী আক্তার জানান, ২০১২ সালে জমির আইল কেটে নেওয়াকে কেন্দ্র করে সামাদ মিয়ার সঙ্গে তার বাবা-চাচাদের সংঘর্ষ হয়েছিল। সেই সময় সামাদ মিয়া ও তার ছেলেরা আবুল হোসেনের বাম হাত ও বাম পা ভেঙে দিয়েছিল। পরে এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলা দায়েরের ক্ষোভে সামাদ ও তার ছেলেরা আবুল হোসেনের পরিবারের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল।
নিহতের স্ত্রী হারুণা বেগম জানান, গত রবিবার ঈদের আগের দিন কোরবানির পশু নিয়ে সামাদ মিয়া ও তার ছেলেরা আবুল হোসেনের ছোট ভাই আবু সাঈদকে উপহাস করলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় আবু সাঈদের চোখ উপড়ে ফেলার হুমকি দেয় সামাদ মিয়ার ছেলে আইনজীবী রুবেল মিয়া। এরপর আবুল হোসেন হুমকির বিষয়টি রুবেলকে জিজ্ঞেস করতেই রামদা দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। বাড়ির কাছেই এ ঘটনা দেখতে পেয়ে আবুল হোসেনকে বাঁচাতে তার ভাই, স্ত্রী, দুই ছেলে ও মেয়েরা এগিয়ে আসলে তাদেরকেও পিটিয়ে আহত করা হয়।
তিনি জানান, অন্য প্রতিবেশীরা তাদেরকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে আবুল হোসেন মারা যান। এর আগে, তার মেয়ে মুক্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত রুবেল মিয়া ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি তাদের বাড়িতে গিয়েও তাদের পাওয়া যায়নি। বাড়ি তালাবদ্ধ দেখা গেছে।
ধরখার পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এএসআই) আবুল কালাম জানান, ঘটনার পরপর সামাদ মিয়া ও তার ছেলেরা কোরবানির পশুসহ বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ওসি নূরে আলম বলেন, 'আবুল হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। অভিযুক্ত যুবক রুবেলসহ অন্যদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’