মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৪ ১৭:২৭ পিএম
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে বৃহৎ ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রবা ফটো
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ
ময়দানে বৃহৎ ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শত ব্যস্ততা, নানা সমস্যা আর প্রাকৃতিক
বৈরিতাকে উপেক্ষা করে এক কাতারে দাঁড়িয়ে ধনী-গরীব সকলে নামাজ আদায় করেন এ ঈদ
জামাতে। ধনী-গরীবের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সাম্য ও সুন্দরের ভিত্তিতে এক নতুন সমাজ গড়ার
এই শিক্ষা নিয়েই জামাত শেষে বাড়ির পথে শোলকিয়া ছাড়েন তারা।
সোমবার (১৭ জুন) সকাল ৯টায় জামাত শুরু
হয়। ১৯৭তম ঈদের জামাতে হাজারো মুসল্লির উপস্থিতি ছিলেন। জামাতে ইমামতি করেন শহরের মারকাজ
মসজিদের ইমাম মাওলানা হিফজুর রহমান খান। শোলাকিয়া ঈদগাহের রেওয়াজ অনুযায়ী জামাত শুরু
হওয়ার আগে শটগানের গুলি ফুটিয়ে জামাত শুরু করা হয়।
দূরের মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঈদের দিন
ময়মনসিংহ টু কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব-টু কশোরগঞ্জ শোলাকিয়া এক্সপ্রেস নামে দুটি স্পেশাল ট্রেনের
ব্যবস্থা করা হয়।
ঈদগাহ ময়দানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন
কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ বিশিষ্টজনরা ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে
মুসলিম উম্মার শাস্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। জামাত শেষে কোরবানির বাধ্যবাধকতা
থাকা এবং আশেপাশের মসজিদে আগেই জামাত হওয়ায় ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আজহায় শোলাকিয়ায়
মুসল্লির সংখ্যা কম হয়।
এ্যাম্বুলেন্সসহ মেডিকেল টিম এবং ফায়ার
সার্ভিসের দুটি ইউনিট সার্বক্ষণিক মোতায়েন ছিল। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটসহ পুলিশের কুইক
রেসপন্স টিমও প্রস্তত রাখা হয়। স্কাউটস সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল
কালাম আজাদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী
লীগের সভাপতি এডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ শান্তিপূর্ণ
পরিবেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং মুসল্লিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
জানান।
ইমাম মাওলানা হিফজুর রহমান খান বলেন,
রেওয়াজ অনুযায়ী জামাত শুরুর আগে তিনবার বন্দুকের গুলি ফুটিয়ে নামাজের প্রস্ততি নেওয়ার
সঙ্কেত দেওয়া হয়। জামাতের পর খুতবা পাঠ শেষে বাংলাদেশসহ মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা
করে দোয়া পরিচালনা করা হয়। ঈদের দিন শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের
যাতায়াতের সুবিধার্থে চলাচল করেছে ২টি স্পেশাল ট্রেন। একটি ট্রেন ভৈরব থেকে সকাল ৬টায়
ছেড়ে আসে এবং অন্যটি ময়মনসিংহ থেকে সকাল পৌনে ৬টায় ছেড়ে আসে।
কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ
রাসেল শেখ জানান, ঈদুল আজহার জামাতকে ঘিরে নেওয়া হয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
পুলিশ, র্যাব, বিজিবির পাশাপাশি সাদা পোশাকেও ছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। নিরাপত্তার
স্বার্থে মাঠে আর্চওয়ে, ওয়াচ টাওয়ার, ড্রোন ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা, সিসি ক্যামেরাসহ
সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল।
শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান পরিচালনা কমিটির
সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই ঈদগাহে ১৯৭তম ঈদুল আজহার নামাজ সম্পন্ন
হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সব ব্যবস্থায় নেওয়া হয়েছিল। দূর-দূরান্তের মুসুল্লিদের
যাতায়াতের জন্য শোলাকিয়া স্পেশাল নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থাও করা হয়।
ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ২০১৬
সালের ৭ জুলাই ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য, এক নারী এবং এক জঙ্গিসহ চারজন
নিহত হন। ওই হামলায় পুলিশসহ ১৬ মুসল্লি আহত হন। ঘটনাটির পরও ঐতিহাসিক এ ময়দানের ঈদ
জামাতে মুসল্লি সমাগমে ভাটা পড়েনি। যদিও করোনার কারণে মাঝে ২০২০ ও ২০২১ সালে এই মাঠে
ঈদ জামাত হয়নি।
১৮২৮ সনে ঈদ জামাতের মধ্য দিয়ে শোলাকিয়া
ঈদগাহের গোড়াপত্তন হয়। প্রবীনরা জানান, শাহ সুফি সৈয়দ আহমদের ইমামতিতে প্রথমবার ঈদের
জামাতে ‘সোয়া লাখ’ মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। আবার কারও
মতে, এ পরগণায় খাজনা আদায়ের পরিমাণ ছিল সোয়া লাখ টাকা। সে কারণে এর নামকরণ হয় শোয়ালাখিয়া
থেকে শোলাকিয়া। ১৯৫০ সালে শহরের হয়বতনগরের দেওয়ান মান্নান দাদ খাঁ (মসনদ-ই-আলা ঈশা
খাঁর ষষ্ঠ বংশধর) ঈদগাহের জন্য ৪ দশমিক ৩৫ একর জমি শোলাকিয়া ঈদগাহে ওয়াকফ করেন। পরে
আরও কিছু জমি এ ঈদগাহের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বর্তমানে প্রায় সাত একর জমির ওপর এ ঈদগাহের
অবস্থান।