ঈদুল আজহা
দিনাজপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৪ ১৭:০৪ পিএম
আপডেট : ১৭ জুন ২০২৪ ১৭:১৮ পিএম
দিনাজপুরে গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে প্রায় তিন লাখ মুসল্লির উপস্থিতিতে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রবা ফটো
ঈদুল আজহা উপলক্ষে অন্যতম বৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনাজপুরে। গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে এ জামাতে দূর-দূরান্ত থেকে অংশ নেয় প্রায় ৩ লাখ মুসল্লি। যাদের নামাজে অংশ গ্রহণে যাতাযাতের জন্য ছিল দুইটি বিশেষ ট্রেন। নামাজ শেষে দেশ-জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
সকাল থেকে মুসল্লিদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান। জামাতে অংশ নিতে সমবেত হয় অসংখ্য মানুষ। প্রায় ২২ একর জায়গা অধিকাংশ পূরণ হয়। এ ঈদের জামাত পরিণত হয় মুসল্লিদের মিলন মেলায়।
সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় এ জামাত। নামাজে অংশ নেয় প্রধান বিচারপতি এম.এনায়েতুর রহিম, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ, পুলিশ সুপার শাহ্ ইফতেখার আহমেদ প্রমুখ।
রাজধানী ঢাকা, চট্রগ্রাম, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ, সাতক্ষীরা, টাঙ্গাইল, বগুড়া, রংপুর, নীলফামারী, জয়পুরহাটসহ আশপাশের অনেক জেলা থেকে মুসল্লিরা অংশ নেয় এ জামাতে। অন্যতম বৃহৎ এ জামাতে নামাজ আদায় করতে পেরা স্বস্তি মুসল্লিদের।
ময়মনসিংহ থেকে এ ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায় করতে আসা মোকাররম হোসেন বলেন, ‘আমি এই প্রথম এত মানুষের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করলাম। এখানে এসে আমার হৃদয় জুড়িয়ে গেছে। এর আগে তিনবার শোলাকিয়ায় নামাজ আদায় করেছি। কিন্তু এতো মুসল্লির সমাগম ছিলনা সেখানে। আল্লাহর হুকুম ছাড়া কিছুই হয় না। তিনি আমাকে তৌফিক দিয়েছেন বলেই এখানে এই বিশাল জামাতে আমার নামাজ আদায়ের সুযোগ হয়েছে।’
রাজধানী ঢাকা থেকে আগত মো. ফারুক আহমেদ বলেন, ‘এত বড় জামাতে এক সঙ্গে নামাজ আদায় এই প্রথম। জানিনা আর কখনও এই সুযোগ হবে কি না! এই বৃহৎ ঈদগাহে নামাজ আদায় করতে পেরে আমি আনন্দিত ও গর্বিত।’
চট্রগ্রাম থেকে নামাজ আদায় করতে আসা সাইফুল হোসেন বলেন, ‘এই প্রথম এত মানুষের সঙ্গে নামাজ আদায়ের সুযোগ হলো। আল্লহর কাছে এ জন্য শুকরিয়া আদায় করছি। তিনি আমাকে সুযোগ দিয়েছেন, এতো মানুষের সাথে নামাজ আদায়ের। আমি গতকাল এসেছি দিনাজপুরে। এই প্রথম দিনাজপুর এলাম। সম্পর্কেও এক বোনের বাড়ি ছিলাম।’
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শাহ্ ইফতেখার আহমেদ জানান, ঈদের জামাত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য বড় এই ঈদ জামাতে নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ঈদগাহ মাঠজুড়ে ছিল তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি জানান, সকাল ৭টা থেকে মুসল্লিরা মাঠে প্রবেশ শুরু করেন। মাঠের চারদিকে তৈরি ১৭টি প্রবেশ পথে মুসল্লিদের মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। মাঠে ছিল ৫টি ওয়াচ টাওয়ার, পুলিশ ও র্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্প। ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ছিল আইন-শৃংখলা বাহিনীর। মাইক বসানো ছিল ১০০টি। এ ছাড়া ইমামকে সহযোগিতা করার জন্য বিভিন্ন মসজিদ এবং মাদ্রাসা থেকে নিয়োজিত ছিল সাড়ে ৫ শতাধিক মুক্কাবির। ছিল মেডিকেল ক্যাম্পের ব্যবস্থা। তৈরি করা হয় ২৫০টি অজুখানা এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা। ছিল যানবাহন পার্কিং গ্যারেজ।
অন্যতম বৃহৎ ঈদের এই জামাত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই ঈদগাহ মাঠের রূপকার ও উদ্যোক্তা জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন স্থান থেকে বড় বড় ঈদগাহ মাঠের চিত্র নিয়ে এসে এ মাঠের নির্মাণ পরিকল্পনা করা হয়। গত ২০১৫ সালে এ ঈদগাহ মাঠের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রায় দেড় বছর পর এটি নামাজের জন্য পুরো প্রস্তুত করা হয়।’
দেশ-জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনা করে এ ঈদের নামাজে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। নামাজ পড়ান ও মোনাজাত করান ইমাম আলহাজ মাওলানা শামসুল হক কাসেমি। তিনি বলেন, ‘ইমামকে সহযোগিতা করার জন্য বিভিন্ন মসজিদ এবং মাদ্রাসা থেকে নিয়োজিত ছিল পাঁচ শতাধিক মুক্কাবির। কয়েকদিন প্রচণ্ড তাপদাহ এবং বৃষ্টি গেলেও আল্লাহর রহমতে আজ আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। মুসল্লিরা স্বস্তি পেয়েছেন, নামাজ আদায়ে।’
দেশ-জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনা করে এ ঈদের নামাজে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।