কুমিল্লা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৪ ১৫:৩৯ পিএম
আপডেট : ১৪ জুন ২০২৪ ২২:১৩ পিএম
নিহত ওমর ফারুক। ফাইল ফটো
ডাকাতিতে বাধা দেওয়ায় আবদুল মালেক নামে এক বৃদ্ধের পেটে গুলি চালায় ডাকাতরা। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা। খবর শুনে হাসপাতালের পথে যাচ্ছিলেন ছেলে ওমর ফারুক। পথে রিকশা উল্টে যায় তার। এ সময় হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার সরসপুর ইউনিয়নের বাতাবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (১৪ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আবু মোহাম্মদ শাহজাহান কবির।
তিনি বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে আমরা এ ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। গুলি ও ডাকাতির সময় চারজন ডাকাত উপস্থিত ছিল। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আবদুল মালেকের ভাতিজা মো. শাহাদাত হোসেন অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেছেন। ঘটনাটি মনোহরগঞ্জ এবং চাটখিল থানার সীমান্তবর্তী হওয়ায় উভয় থানার পুলিশ জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল মালেক একজন চা দোকানি। বাতাবাড়িয়া গ্রামে নিজ বাড়ির সামনেই তার চায়ের দোকান। প্রতিদিনের ন্যায় বৃহস্পতিবার আব্দুল মালেক ফজরের নামাজ শেষে দোকান খুলে বসেন। একটু পরেই তার স্ত্রী শহিদা বেগম আসেন চা খেতে। এরই মধ্যে দুটি মোটরসাইকেলযোগে চারজন ডাকাত ক্রেতা সেজে দোকানে প্রবেশ করে। এ সময় আব্দুল মালেকের কাছে সিগারেট চান ডাকাতরা। মালেক তাদেরকে সিগারেট দিতে দিতেই হঠাৎ ডাকাতরা পিস্তল বের করে তার স্ত্রী শহিদা বেগমের গলায় থাকা সোনার চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নেয়। এক পর্যায়ে মালেক তাদেরকে বাধা দিলে ডাকাত সদস্যরা তাকে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
আবদুল মালেককে স্থানীয় নাথেরপেটুয়া এলাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুলির ঘটনার সময় বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন ছেলে ওমর ফারুক। তিনি গুলির ঘটনা শুনে রিকশাযোগে হাসপাতালে রওনা দেন। বাড়ির কাছাকাছি ঈদগাহের কাছে এলে গর্তে পড়ে রিকশাটি উল্টে যায়। রাস্তায় পড়ে যাওয়ার পর হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় স্থানীয় বাতাবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ওমর ফারুকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, আবদুল মালেকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নাথেরপেটুয়া থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।