মনিরুজ্জামান বাবলু, চাঁদপুর
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৪ ১১:২৫ এএম
পশুর হাটে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সড়ক ও নৌপথে গরু নিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। সোমবার রাজধানীর পোস্তগোলা ব্রিজ থেকে তোলা। আলী হোসেন মিন্টু
চাঁদপুরে প্রান্তিক খামারিরা ভারতীয় গরুর প্রবেশ ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কারণে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, উত্তরবঙ্গ থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গরু এনে চাহিদা মেটাবেন। প্রান্তিক খামারিরা নায্য দাম পাবেন।
এবার চাঁদপুরে কোরবানিতে গবাদিপশুর চাহিদা ৭৮ হাজার ৫৬৬টি। চলতি বছর এ জেলায় গবাদিপশু উৎপাদন হয়েছে ৬১ হাজার ৪৮৯টি। চাহিদার তুলনায় গবাদিপশুর সংকট রয়েছে ১৭ হাজার ৭৭টি। চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত ৫ শতাধিক মৌসুমি ব্যবসায়ী। অপরদিকে ঈদকে লক্ষ্য রেখে প্রান্তিক খামারিরা সারা বছর বাড়তি দামে গো-খাদ্য কিনে লালন-পালন করে আসছে। তবে ভারতীয় গরু ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দাপটে তারা নায্য দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
হাজীগঞ্জ উপজেলার সেন্দ্রা গ্রামের বীর অ্যাগ্রো ফার্মের খামারি আনিছুর রহমান সোহেল বলেন, ‘এবার কোরবানির ঈদে আমরা ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছি। অবৈধপথে ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করার কারণে আমরা প্রান্তিক খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। সরকারের প্রতি আহ্বান, ভারতের গরু যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে। তাহলে আমরা প্রান্তিক খামারিরা রক্ষা পাব।’
আরেক খামারি জয়দেব পাল বলেন, ‘আমরা গরুকে নিজেদের প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়াই। নিজেদের জমিতে বিভিন্ন জাতের ঘাস উৎপাদন করি। আমরা গরুকে কোনো ধরনের ফিড খাওয়াই না।’
খামারিরা বলছেন, গত ঈদের তুলনায় এবার গরুর চাহিদা বেশি রয়েছে। তবে গরু লালন-পালনে খরচ বেড়ে যাওয়ায় দামের সঙ্গে মিল পাচ্ছেন না প্রান্তিক খামারিরা।
হাজীগঞ্জ পৌরসভার ধেররা এলাকার বিসমিল্লাহ অ্যাগ্রো ফার্মের খামারি হায়দার পারভেজ সুজন বলেন, ‘সবকিছুর দাম বাড়তি। গো-খাদ্যের বাড়তি দাম, শ্রমিকদের বেতনসহ গরু লালন-পালনের খরচ আর বাজারের দামের মধ্যে অনেক তফাত থাকে।’
গোল্ডেন ফার্মের ম্যানেজার বলেন, ‘খাদ্যের সঙ্গে গরুর দাম বা খামারের খরচ মেলাতে আমাদের কষ্ট হয়। যদি মৌসুমি খামারগুলো বন্ধ করা যেত, শুধু খামার থেকে গরু নিয়ে সরকার বাজারে বিক্রি করত, তাহলে আমরা ন্যায্য দাম পেতাম। খামারিরা আরও উৎসাহী হতো। প্রতিবছর আমাদের এই খামার থেকে এক থেকে দেড়শ গরু বিক্রি হয়। ভারত থেকে গরু নামলে আমাদের এখানে দাম কমে যায়। গরু পালনের মোট খরচের সঙ্গে বাজারের দামে মিলে না।’
এদিকে জেলায় গবাদিপশুগুলোর মধ্যে গরু রয়েছে ৩৩ হাজার ৮৪৩টি, মহিষ ২২৬টি, ছাগল ২৫ হাজার ৮৭৬টি এবং ভেড়া ১ হাজার ৪২টি। এ ছাড়াও অন্যান্য পশু রয়েছে ১৪২টি। চলতি বছর গবাদিপশু উৎপাদন কম হলেও প্রভাব পড়বে না হাটে। চাঁদপুরে ৩ হাজার ২৬৯ জন প্রান্তিক খামারি রয়েছেন। এবার চাঁদপুরের আট উপজেলায় ১৫১টি গবাদিপশুর হাট বসবে। সেসব হাটে গরু নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের আগমনে ঘাটতি পূরণ হবে বলে প্রত্যাশা করেন জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জ্যোতির্ময় ভৌমিক বলেন, ‘চাঁদপুরের খামারিদের কাছে ৬১ হাজার ৪৮৯টি গবাদিপশু পেয়েছি। থানাভিত্তিক চাহিদাটা একটু বেশি। প্রায় ৭৯ হাজার চাহিদা আছে। এ অনুসারে ১৭ হাজার ঘাটতি পড়েছে। জেলায় খণ্ডকালীন বা মৌসুমি পাঁচশরও বেশি গরু ব্যবসায়ী রয়েছেন। তারা ইতোমধ্যে উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু আনা শুরু করেছেন। ওই গরুগুলো যোগ হয়ে গেলে চাঁদপুরে কোরবানির গরুর চাহিদার কোনো ঘাটতি থাকবে না। মানুষ নিরাপদ গবাদিপশুর মাংস এবং কোরবানির মাংস পাবে বলে আশা করি।’