খাদেমুল ইসলাম, মাদারগঞ্জ (জামালপুর)
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৪ ১৪:৪৫ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারের কামারশালায় ব্যস্ততা বেড়েছে কামার শিল্পীদের। প্রবা ফটো
হাপরের বাতাসে কয়লার আগুনে পুড়ছে লোহা। জ্বলন্ত আগুনের তাপে কপাল থেকে ঝরছে ঘাম। চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ। তবু থেমে নেই তারা। সকাল পেরিয়ে রাত পর্যন্ত চলছে হাতুড়ি পেটানোর কাজ। পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারের কামারশালায় ব্যস্ততা বেড়েছে কামার শিল্পীদের। পশু জবাই করা, মাংস কাটা ও চামড়া ছড়ানোর পুরোনো সরঞ্জামাদি শান দেওয়া, নতুন লোহা পুড়িয়ে ধারালো দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতি বানানোর কর্মযজ্ঞ চলছে পুরোদমে। মাংস কাটার সরঞ্জামাদি তৈরির টুংটাং শব্দে মুখরিত প্রতিটি কামারশালা। আর এসব সরঞ্জামাদি কিনতে ক্রেতারাও ভিড় করছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, লাল আগুনের লোহায় পিটুনিতে সরগরম হয়ে উঠেছে কামারের দোকানগুলো। টুংটাং শব্দের ছন্দে তাল মিলিয়ে চলছে হাতুড়ি আর ছেনির কলাকৌশল। শ্রমিকরা চাপাতি, ছুরি, বঁটি ও চাকু তৈরিতে কাজ করছেন। যতই ঈদের দিন ঘনিয়ে আসবে, ততই বাড়বে তাদের ব্যস্ততা। কেউ কেউ ছুরি, চাপাতি, দা ও বঁটিতে শান দিতে ব্যস্ত। আবার কেউ কেউ লোহার টুকরো গরম করে হাতুড়ি পিটিয়ে তৈরি করছেন ছুরি, চাপাতি, দা-বঁটি।
শহীদুল ইসলাম নামে একজন কর্মকার বলেন, বর্তমানে তেমন একটা বেচাবিক্রি নেই, তাই নেই কোনো উচ্ছ্বাস। তার পরও আসন্ন কোরবানির ঈদের কথা মাথায় রেখে নতুন আশায় বুক বেঁধে ব্যস্ত সময় পার করছি। বছরের অন্যান্য সময় আমাদের ব্যবসা মন্দা যায়। এ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে প্রণোদনাসহ সুযোগ-সুবিধা দরকার।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম খালেক বলেন, ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৭১০ জনের অনলাইন জরিপ করে অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কামার, কুমার, নাপিত, বাঁশ ও বেত প্রস্তুতকারক, কাঁশা/পিতল প্রস্তুতকারী, নকশিকাঁথা প্রস্তুতকারী, জুতা মেরামত/প্রস্তুতকারী, লোক শিল্প ইত্যাদি জনগোষ্ঠী এ প্রান্তিক সম্প্রদায়ভুক্ত। পিছিয়ে পড়া এ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য সরকার ভাতা ও সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি চালু করেছে।