বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৪ ১৭:৩৮ পিএম
আপডেট : ০২ জুন ২০২৪ ১৮:৫৭ পিএম
শিক্ষক আবু রায়হান। সংগৃহীত ফটো
বগুড়ায় একটি কলেজের শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্নাতক চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা চলাকালে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে ক্ষুব্ধ আচরণের অভিযোগ উঠেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করার জন্য একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে। তারা পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন। শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ পেয়ে রবিবার (২ জুন) দুপুরে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এ শিক্ষার্থী অভিযোগে উল্লেখ করেছেন– গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের ২০১ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন তিনি। হল পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন একই কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক আবু রায়হান। তাদের দুজনের বাড়ি জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার শিকতা গ্রামে। শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে শিক্ষক রায়হানের পরিবারের দ্বন্দ্ব রয়েছে। এর জেরে শিক্ষার্থীর খাতা কেড়ে নিয়ে গায়েব করে দেওয়া ও বহিষ্কারের হুমকি দেন রায়হান।
সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রেজাউন নবী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, ঘটনা তদন্ত করার জন্য কলেজের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুস সামাদকে আহ্বায়ক করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে তদন্ত কাজে থাকবেন কলেজের আরও দুই শিক্ষক ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহসিনা খাতুন এবং আইসিটি বিভাগের প্রভাষক তরিকুল ইসলাম।
সে দিন পরীক্ষার হলে কী ঘটেছিল– এ প্রসঙ্গে ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘পেছনে তাকানোর কারণে পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৪৫ মিনিট পর আবু রায়হান স্যার আমার খাতা কেড়ে নেন। আমি ৩০ মিনিট পর স্যারের কাছে খাতা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করি। পরে তিনি আমাকে সামনে ডেকে নেন। আমাকে পরিবারের বিষয়ে কিছু জানি কি না, জিজ্ঞেস করেন। আমাকে তিনি বলেন– ‘তোমার বাবা তো আমার ভাইদের মেরেছে। তোমার বাবাকে আমার ভাইদের কাছে ক্ষমা চাইতে বলো। নইলে তোমার খাতা গায়েব করে দেব, না হয় বহিষ্কার করে দেব। পাঁচ বছর যেন পরীক্ষা না দিতে পার সেই ব্যবস্থা করব।’
শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘আমার স্বামীও অর্থনীতি বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিচ্ছিল। আমার মতো তারও একই অবস্থা করবে বলে হুমকি দেন আবু রায়হান স্যার। দেড় ঘণ্টা পর তিনি আমার খাতা দেন। আমি এখন ওই বিষয়ে পাস করা নিয়ে চিন্তাই আছি। দুই কলেজের প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’
শিক্ষার্থীর স্বামী বলেন, ‘৪১৫ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা শেষ করে বাইরে বের হওয়ার পর আবু রায়হান স্যারের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন– পরীক্ষা কেমন দিচ্ছ। আমি তাকে জানাই ভালো হচ্ছে। এই শুনে স্যার আমাকে বলেন– এর পর থেকে কীভাবে ভালো পরীক্ষা দাও সেটা দেখে নেব।’
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় নারী শিক্ষার্থীর পরীক্ষার হলে থাকা আরেক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে। জাহিদ হাসান নামে এই পরীক্ষার্থী বলেন, ‘পেছনে তাকানোর কারণে ওই শিক্ষার্থীর খাতা কেড়ে নেয়েছিলেন রায়হান স্যার। দেড় ঘণ্টা পর খাতা ফেরত দেন তিনি। পরে ওই শিক্ষার্থীকে সামনে ডেকে নিয়ে কথা বলেন। তবে কী কথা হয়েছে, তা শুনিনি। ওইদিন আরেক শিক্ষার্থী নকল করেছিল। তাকে রায়হান স্যার পরীক্ষার হল থেকে বের করে দিয়েছিলেন।’
জানতে চাইলে আবু রায়হান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থী পেছনে দেখে লিখছিল। তাই খাতা কেড়ে নিয়েছিলাম। তার বাবা আমার ভাইদের মেরেছে, এটা সত্য। তবে সেই ঘটনায় তার খাতা নেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।’
সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউন নবী বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার ২০১ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা চলাকালে এক পরীক্ষার্থীর খাতা কেড়ে নেওয়া ও বহিষ্কারের হুমকির লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবেন। যেহেতু আবু রায়হানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাই তাকে পরীক্ষার ডিউটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’