নির্বাচনী সহিংসতা
বরগুনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৪ ১৮:৪৯ পিএম
আপডেট : ৩১ মে ২০২৪ ১৯:০৭ পিএম
সংঘর্ষে আহত পাথরঘাটা উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী এনামুল হোসাইন। প্রবা ফটো
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তফা গোলাম কবির (কাপ-প্রিচ মার্কা) ও এনামুল হোসাইনের (দোয়াত-কলম মার্কা) সমর্থকদের সংঘর্ষে প্রার্থীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাকচিড়া ইউনিয়নের কাটাখালী ও পাথরঘাটা হাসপাতালে দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে ১০ জনকে পাথরঘাটা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে এদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আহতরা হলেন, প্রার্থী এনামুল হোসাইন, যুবলীগ নেতা ফয়সাল আহম্মেদ, মো. সোলাইমান, শাহ আলী, সবুজ গাজী, তানভীর আহম্মেদ, ছাত্রলীগ নেতা মো. আহাদ, মো. রাকিব, রুবেল মিয়া ও হাসান রাব্বি।
আটকরা হলেন, নাঈমুল ইসলাম, মো. মনির হোসেন, মো. মিজান, মো. ইব্রাহীম, শাহাদাৎ, আবু মুছা, মো. হাবিবুর রহমান, মো. শান্ত ও মো. খোকন।
প্রার্থী এনামুল হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচনের শুরু থেকেই কাকচিড়া ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টুর ছেলে রাজন আহম্মেদ কাপ-প্রিচ মার্কার পক্ষ নিয়ে আমার লোকজনকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং প্রচার অফিস ভাঙচুর করেছে। আজ একইভাবে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে রাজন তার লোকজন নিয়ে আমার কাকচিড়া ইউনিয়নের নির্বাচনী প্রচার অফিসে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে আমি কিছু কর্মী নিয়ে সেখানে গেলে আমার ওপরে হামলা করে রাজন। আমাকে কুপিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তাক্ত জখম করে। পরে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করায়।’
মোস্তফা গোলাম কবির জানান, বিকালে কাকচিড়া ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে আমার ও এনামুলের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির সময় একটু হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা মিট করে দেয়। তবে এনামুল সন্ধ্যার পর তার লোকজন নিয়ে ওই এলাকায় আমার লোকজনকে মরধর করেছে। তাদের মধ্যে শাহ আলী ও রাকিবকে পাথরঘাটা হাসপাতালে ভর্তি করালে সেখানে আমার লোকজন দেখতে যায়। এ সময় এনামুলের সমর্থকরা আমাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
পাথরঘাটা হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ‘প্রার্থী এনামুল ভর্তি হওয়ার পর মোস্তফা গোলাম কবিরের সমর্থক দুজনকে ভর্তি করালে আহতদের দেখতে উভয় পক্ষের লোক পাথরঘাটা হাসপাতালে জড়ো হয় এবং হাসপাতালের মধ্যেই সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে অনেকেই রক্তাক্ত আহত হয়েছে। ৩০ মিনিট ধরে সংঘর্ষ চলার পর পুলিশ এসে উভয় পক্ষের ওপর লাঠিচার্জ করে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।’
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন বলেন, ‘এ ঘটনা যাতে নির্বাচনের ওপর প্রভাব না ফেলে সে কারণে মারামারির সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। অভিযোগ এখনও প্রক্রিয়াধীন। অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এই উপজেলায় ২৯ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে তা স্থগিত করা হয়। ৯ জুন এই উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে।