প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৩ ১৭:২৬ পিএম
আদিবাসী পরিষদকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করেছেন পরিষদের নেতারা। তারা বলছেন, এই বিভক্তির জন্য নানামুখী চক্রান্তও করা হচ্ছে।
সম্প্রতি আদিবাসী পরিষদের সভাপতিকে অব্যাহতি দিয়ে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে নেতারা এ দাবি করেন। এ সিদ্ধান্তকে ‘অগণতান্ত্রিক’ বলেও উল্লেখ করেন তারা।
বুধবার (৩০ আগস্ট) জাতীয় আদিবাসী পরিষদের তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের তিন দশক পূর্তি এবং আদিবাসীদের বিভক্ত ও দুর্বল করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর শাহবাগে সমাবেশ করার ঘোষণা দেন সংগঠনটির নেতারা।
এ সময় পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন ও আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়।
দাবিগুলো হল- আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠন করা, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে আদিবাসীদের চাকরি ও শিক্ষায় কোটা নিশ্চিত করা, গাইবান্ধার সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের তিন সাঁওতাল হত্যা এবং রাজশাহীর গোদাগাড়িতে অবিনাথ মার্ডি ও রবব মার্ডির আত্মহত্যার জন্য দায়িদের বিচার ও শাস্তি প্রদান, আদিবাসীদের ওপর হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, জমি দখল, লুটপাট, মিথ্যা মামলাসহ পুলিশি হয়রানি বন্ধ করা, আদিবাসীদের নামে বরাদ্দ করা টাকা আত্মসাৎ, ভূমি অফিসের ঘুষ-দুর্নীতি-হয়রানি-হয়রানি বন্ধ করাসহ পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন করা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, দপ্তর সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নরেন চন্দ্র পাহান ও দফতর সম্পাদক সুভাষ চন্দ্ৰ হেমব্রম, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ বগুড়া জেলার সভাপতি সন্তোষ সিং বাবু, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ নাটোর জেলার সভাপতি রুঘুনাথ এক্কা প্রমুখ।
সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, নিদারুণ সংকট ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সমতল ও পাহাড়ের আদিবাসীদের জীবন কাটছে। বাংলাদেশের ৫০টিরও বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠী তাদের ভূমি, ভাষা-সংস্কৃতি, জীবিকা ও অস্তিত্ব রক্ষার এক কঠিন সংগ্রামে লিপ্ত। যে দেশের জন্ম হয়েছিল শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে ভাষা, সংস্কৃতি আর অধিকার প্রতিষ্ঠার যুদ্ধের মধ্য দিয়ে, সেই দেশে আদিবাসীদের এখন লড়াই করতে হচ্ছে নিজেদের অধিকারের জন্য।
তিনি বলেন, আদিবাসীদের ভাষা, সংস্কৃতি বিপন্ন, দারিদ্র্য কমছে না, শিক্ষার সুযোগ বাড়ছে না, নাগরিক অধিকার বিপন্ন, পুষ্টিহীনতা ব্যাপক, বেকারত্ব ভয়াবহ, সরকারের ঘোষিত মাথাপিছু আয় এবং আদিবাসীদের আয়ের মধ্যে পার্থক্য বিশাল। দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া অঞ্চল বলতে আদিবাসী-অধ্যুষিত অঞ্চলকেই বোঝানো হয়। আদিবাসীরা এখন পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।
সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম বলেন, আদিবাসী পরিষদকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির অনুমতি ছাড়া এই সভা কে আহ্বান করেছিলেন? সভায় কারা উপস্থিত ছিলেন? এই ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সারা দেশের কমিটিগুলোকে আহ্বান করা হয়েছিল কিনা? সভাপতির অনুপস্থিতিতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত কি নেওয়া যায়? ন্যূনতম গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও সাংগঠনিক নীতি মানলে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া কি সম্ভব?
অধ্যাপক রুবায়াত ফেরদৌস বলেন, দেশের সংবিধান দেখলে মনে হয় এটি ‘বালী, মুসলিম ও পুরুষের’। দেশ ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে আদিবাসী শব্দ চারবার থাকলেও, এই সরকার এখন আদিবাসী নাই বলে দেশে এই শব্দ ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আদিবাসীদের বিভিন্নভাবে সংখ্যালঘু না বরং সংখ্যাশূন্য করার প্রক্রিয়া চলছে।
রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, পর্যটন বিকাশ ও আধুনিকায়নের নামে আদিবাসীদের পেছনে ফেলে রাখাটা অমানবিক। নিজেদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় আদিবাসীদের নিজেদের শক্তিতে লড়তে হবে। প্রায় ৬০ শতাংশ আদিবাসী দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে। প্রায় ২৫ শতাংশ চরম দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করে। গড় আয়ু ও গড় আয়েও তারা অনেক পিছিয়ে।