মাতৃস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মত
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৩ ১৮:৪৪ পিএম
আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৩ ১৯:১৪ পিএম
প্রবা ফটো
যেসব বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে
মায়েদের নরমাল ডেলিভারির সুযোগ নেই, শুধু পেট কাটা হয় সেসব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে
বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মাতৃস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সামিনা
চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীতে
আইসিডিডিআরবি ভবনে ছোট দুর্বল নবজাতকদের ওপর বিখ্যাত মেডিসিন জার্নাল ল্যানসেট সিরিজের
আঞ্চলিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল
সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি ড. সামিনা চৌধুরী বলেন, ‘সরকারকে আমরা বারবার
বলেছি, যেসব ক্লিনিকে নরমাল ডেলিভারি সুযোগ নেই সেসব ক্লিনিক বন্ধ করে দিন। যেখানে
নরমাল ডেলিভারি করার সুযোগ নেই সেখানে রোগী যাবে কি করতে শুধু পেট কাটতে? এ দেশের নারীদের
বড় একটা অংশ থাকবে পেট কাটা কেমন কথা। আমাদের সি- সেকশন কমাতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘গ্রামে এত বেশি
প্রাইভেট ক্লিনিক হয়ে গেছে এগুলো শুধু সিজিরিয়ান অপারেশন করে, আর কোনো কাজ নেই। তারা
এসব রোগী খুঁজে বেড়ায়। খুঁজে সরাসরি অপারেশনের টেবিলে পাঠায়। এখানে নানারকম ফন্দিফিকির
চলে। সেগুলো কেউ দেখে না। যারা চিকিৎসা দিচ্ছে এদের অধিকাংশ নন গাইনেকোলজিস্ট।’
গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষার
বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আয়রন ফলিক এসিড নয় এখন মায়েদের পরিপূরক খাবার হিসেবে জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম,
ম্যাগনেসিয়াম ও বহুমুখী খাদ্য পুষ্টি দিতে হবে। আমাদের দেশের নারীদের খাবারের মধ্যে
শর্করা ঘাটতি থাকে। প্রাণিজ শর্করা বেশি করে দিতে হবে। ইলিশ ও পাঙ্গাসের তেল তাদের
জন্য দরকারি। ক্যালসিয়াম ও জিঙ্ক দিতে হবে।’
এর আগে ল্যানসেট সিরিজের ওপর আলোচনা করেন আইসিডিডিআরবির গবেষণা কর্মকর্তা
ডা. সানুর রহমান এহসান। তিনি বলেন, ‘একটি শিশুর জম্মের
আগেই তার স্বাস্থ্যগত ও মানষিক অবস্থার ভিত্তি গড়ে উঠে। মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় মায়ের
পুষ্টিগত অভাব ও মানষিক অসুস্থতার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার ২ দশমিক ২ কোটি শিশু কম ওজন
নিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগে ভূমিষ্ঠ হয়। ল্যানসেটের মাত্র ১৩টি জায়গায় কাজ করলে এর হার
অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। এতে বিনিয়োগ করতে হবে মাত্র ১ বিলিয়ন ডলার যা অনেক সময় একটি
স্থাপনাতেই বিনিয়োগ হয়।’
ল্যানসেট সিরিজের লেখক পির এসরন জানান,
পৃথিবীর এক চতুর্থাংশ শিশু সময়ের আগে ও কম ওজন নিয়ে জম্মায়। তিনি বলেন, ‘এটা মানবাধিকার,
জনস্বাস্থ্য অর্থনীতি ও উন্নয়নের জন্য বড় চিন্তার। আমরা এ বিষয়টিকে গুরুত্ব না নিয়ে
আমাদের ভবিষ্যত ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছি। শুধু মায়ের গর্ভাবস্থায় সঠিক যত্ন না নেওয়ার কারনে
এটা ঘটছে। সরকার এটাতে বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতে আরও দক্ষ মানবসম্পদ পেতে পারে রাষ্ট্র।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের
নবজাতক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মান্নান বলেন, বছরে প্রায় ৩২ লাখ শিশু জম্মগ্রহণ
করে। এর ২০ শতাংশ সময়ের আগেই জম্ম ভূমিষ্ট হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৯ ভাগ সময়ের
আগে জম্ম হয়। ৩৭ সপ্তাহের আগে জম্ম হলে শিশুর ওজন কম। আর ওজন কম হলে পুষ্টি ঘাটতি হয়
ও মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে। কারণ, কম ওজন ও অপূর্ণতাপ্রাপ্ত নবজাতকের অন্যান্য সংক্রামক ঝুঁকি
বেড়ে যাবে, শারীরিক উন্নয়ন হবে না।