প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৩ ১৭:২৮ পিএম
আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৩ ১৭:৫২ পিএম
রাজধানীতিতে নির্মাণাধীন ভবনে জমে আছে বৃষ্টির পানি। ছবি : প্রবা
কোনো দেশ ডেঙ্গু পুরোপুরি নির্মূল করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।
তিনি বলেছেন, কেউ ডেঙ্গু নির্মূল করতে পারবে না। কোনো দেশ করতে পারেনি। আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি। আপনারা উন্নত দেশের তথ্য ও পরিসংখ্যান মিলিয়ে দেখেন, তাহলে দেখবেন অন্যান্য দেশের তুলনায় এখন পর্যন্ত আমরা ভালো অবস্থানে রয়েছি। যদিও আমাদের মৃত্যুহার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বুধবার (৫ জুলাই) হাতিরঝিলে পানি নিষ্কাশন যন্ত্র পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজন মারা যান, যা এই মৌসুমের এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এ সময় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬৭৮ জন। এ ছাড়া ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৪২৯ জনকে। আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ২৪৯ জনকে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ১ হাজার ৬৬৯ জন।
মেয়র তাপস বলেন, ’বুঝতে হবে সামগ্রিক জলবায়ু, আবহাওয়া, ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিবেশের কারণে এডিস আমাদের দেশে বিস্তৃত হয়েছে। সেটাকে রোধ করতে হলে সবাই মিলে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। চিকিৎসাসেবার মান-পরিধি আরও বৃদ্ধি করতে হবে। একজন রোগী যেন শঙ্কাজনক অবস্থায় না যায়, এজন্য প্রাক (আগের) যে চিকিৎসাসেবা, তা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে মৃত্যুর হার কমাতে পারব।’
এক প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ’একটি হলো মৌসুমের আগে স্বাভাবিকভাবে কিছু রোগী হওয়া। আরেকটি হলো মৌসুমের সময় হওয়া। মৌসুমের আগে যেটা হয় যদিও সেটা পূর্ণ হিসেবে চলে আসে। কিন্তু আসলটা কিন্তু মৌসুমের মধ্যে কী হচ্ছে, সেটা বিষয়। যে সময় তীব্র দাবদাহ ছিল সেই সময়েও ডেঙ্গু রোগী পেয়েছি। সেই সময় এটা হওয়ার কথা নয়। আমরা এগুলোকে আমলে নিয়ে কার্যক্রম বিস্তৃত করেছি। ২০২১ সালে আমরা দুই মাসের কার্যক্রম নিয়েছিলাম। এখন আমরা চার মাসের কার্যক্রম নিয়েছি। আমরা সক্ষমতা বৃদ্ধি করছি। কার্যক্রমও বৃদ্ধি করছি।’
তিনি বলেন, ’এখন মৌসুম তুঙ্গে। জুলাই মাস চলে এসেছে। জুলাই থেকে বৃদ্ধিটা শুরু হয়। আগস্ট মাসে সবচেয়ে তুঙ্গে যায়। সেপ্টেম্বর মাসে কমে আসে। কিন্তু গত বছর আমরা পরিবর্তন দেখেছি। চরিত্রে পরিবর্তন দেখেছি। আগস্ট মাসে কেবল বৃদ্ধি পায়নি। সেপ্টেম্বরে আরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অক্টোবর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। কমা শুরু হয়েছে নভেম্বরে গিয়ে।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটির আওতাধীন এলাকা থেকে বেশি ডেঙ্গু রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়ে ব্যারিস্টার তাপস বলেন, ’ঢাকার উত্তর অঞ্চলটা পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। সেখানে বনানী গুলশানের সঙ্গে তুলনা করে মিলালে সেটা হবে না। বারিধারার সঙ্গে যদি মেলান হবে না। সেখানে উত্তরা রয়েছে, মিরপুর রয়েছে। এগুলোতে পরিকল্পিত নগরায়ণ হয়েছে। আমাদের এখানে পরিকল্পিত নগরায়ণ কম হয়েছে। এখানে জনসংখ্যা বেশি। প্রতিকূলতা বেশি। সেই প্রতিকূলতা নিয়েই আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হচ্ছি। এসব প্রতিকূলতা বিবেচনায় নিয়েই কর্মপরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।’
ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ’জরিপের ফল আসার আগেই গতকাল থেকে চিরুনি অভিযান শুরু করেছি। আমাদের অবস্থান, আমাদের পারিপার্শ্বিকতা—এসব আমলে নিয়েই আমরা আমাদের কার্যক্রম সাজিয়েছি। কারও সঙ্গে আমাদের প্রতিযোগিতা নেই। আমাদের দায়িত্ব আমরা পালন করতে চাই।’
কোথাও এডিস মশার লার্ভা থাকলে বা থাকতে পারে—এমন ধারণা করলে সিটি করপোরেশনকে জানানোর অনুরোধ করে তিনি বলেন, ’১৫ মিনিটের মধ্যে তাদের কর্মীরা সেই লার্ভা ধ্বংস করে দিতে পারবে। আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন, পানি কোথাও জমতে দেবেন না। পানির উৎস ধ্বংস করতে পারলে ডেঙ্গু রোগ থেকে মুক্ত হতে পারব।’