প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৩ ১৩:৪৮ পিএম
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরবিক্রম মহিবুল্লাহর পরিবার। প্রবা ফটো
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরবিক্রম শহীদ মহিবুল্লাহর পরিবারকে পুরান ঢাকার নর্থব্রুক হল রোডের বাড়ি থেকে বাস্তুচ্যুত করার অভিযোগ এনেছেন পরিবারের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (২৭ জুন) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে শহীদ মহিবুল্লাহর পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগ করেন।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মহিবুল্লাহর বড় ছেলে মো. আলাউদ্দিন ও ছোট পুত্রবধূ উম্মে জহুরা মৌসুমী তাদের অভিযোগ উত্থাপন করেন।
তারা বলেন, আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ আজিজ ওই বাড়ির দুই তৃতীয়াংশের মালিকানা পেয়ে যাওয়ার পরেও জাল দলিল করে শহীদ মহিবুল্লাহর পরিবারকে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আদালতের রায় তার পক্ষে আসায় গত ৭ জুন ঢাকা জেলা প্রশাসন এক অফিস আদেশে শহীদ পরিবারকে উচ্ছেদের নির্দেশনা জারি করে। উচ্ছেদ অভিযানের আগে শহীদ মহিবুল্লাহর পরিবারকে কোনো সতর্কীকরণ বার্তা বা চিঠি দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ পরিবারের।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, উচ্ছেদের সময় এগিয়ে যাওয়ায় শহীদ মহিবুল্লাহর ছেলের শাশুড়ি নাজমুন নাহারকে লাঞ্ছিত করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। নাজমুন নাহার বীর প্রতীক বাঘা মালেকের স্ত্রী।
তারা জানান, ১৯৬৯ সালে ঢাকার নর্থব্রুক হল রোডে পরিত্যক্ত এক ভবনে আবাস গড়ে তুলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিবুল্লাহ৷ তিনি যুদ্ধে শহীদ হওয়ার পরে ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতির আদেশে বাড়িটি শহীদ পরিবারের নামে বরাদ্দ করা হয়। তবে শহীদ পরিবার নিজেদের নামে বাড়ির নিবন্ধন করিয়ে নিতে পারেননি।
শহীদসন্তান আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা গত ৫৫ বছর ধরে এ বাড়িতে রয়েছি৷ কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। হঠাৎ জানতে পারি, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ আজিজ বাড়ির দুই তৃতীয়াংশ মালিকানা পেয়েছেন। তিনি পুরো বাড়ির দখল নিতে আমাদের উচ্ছেদ করতে জাল দলিল বানিয়ে আদালতের নির্দেশনা নিয়ে আসেন। কোনো নোটিশ ছাড়া গত ২৫ জুন বিকেলে ঢাকা জেলা প্রশাসনের দুজন এসিল্যান্ড ও কজন পুলিশ সদস্য এসে আমাদের টেনেহিঁচড়ে বের করে দেন।।
তিনি বলেন, ‘ওখানে তো সরকারের অর্থাৎ জেলা প্রশাসক ঢাকার নামেও এক তৃতীয়াংশ জায়গা রয়েছে। ভূমি বন্দবস্ত নীতিমালায় তো বরাদ্দ প্রদানে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ১ নাম্বারে রেখেছেন, আমরা কি সরকারি অংশে থাকার অধিকার রাখি না? মাননীয় জেলা প্রশাসক কি সরকারি খাস সম্পত্তির অংশ থেকে আমাদের উচ্ছেদ বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিতে পারতো না?’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বাড়িটিতে দুই তৃতীয়াংশের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ আজিজ৷ যে একটি অংশ ঢাকা জেলা প্রশাসনের অধীনে রয়েছে, সেখানে শহীদ বীরবিক্রম মহিবুল্লাহর পরিবারকে পুনরায় নিয়ে আসা হবে আজ। সে অংশটি তাদের নামে বরাদ্দ করা হবে।’
গত ২৫ জুন বিনা নোটিশে শহীদ পরিবারকে উচ্ছেদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে লাঞ্ছনার অভিযোগ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ঢাকা জেলা প্রশাসক।
পাকিস্তানি নৌবাহিনীর সাবেক ক্রুম্যান (এবি) মো. মহিবুল্লাহ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে প্রতিরোধযুদ্ধে শেষে ভারতে যান। পরে তাকে মুক্তিবাহিনীর নৌ-উইংয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একাত্তরের ১০ ডিসেম্বর মোংলার কাছাকাছি একটি এলাকায় যুদ্ধ জাহাজে থাকা অবস্থায় গোলাবর্ষণে মারা যান মহিবুল্লাহ। সরকার তাকে বীর বিক্রম খেতাব দেয়, তার নামে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে একটি রণতরীও রয়েছে।