প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২০:৫৬ পিএম
আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২১:৫০ পিএম
অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিতে দেশের বেসরকারি হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয় সিলেটে এবং সবচেয়ে কম রাজশাহীতে। সিলেটে গড়ে ব্যয় হয় ৩০ হাজার ৫৫৭ টাকা ও রাজশাহীতে ১৫ হাজার ৭০৫ টাকা। আবার সরকারি হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয় সিলেটে ১৭ হাজার ৮৩৭ টাকা। আর সবচেয়ে কম ব্যয় হয় রংপুরে ৭ হাজার ৩১ টাকা। এনজিও পরিচালিত চিকিৎসাকেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি ব্যয় সিলেটে ২১ হাজার ৪৭৬ টাকা ও কম রংপুরে ১২ হাজার ৮১ টাকা।
মেসিভ বোম অব সি-সেকশন ডেলিভারি ইন বাংলাদেশ : এ হাউজহোল্ড লেভেল অ্যানালাইসিস ২০০৪-২০১৮ শীর্ষক জরিপের ফল সামনে এনেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ-বিআইডিএস। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নিজস্ব ভবনে এক অনুষ্ঠানে বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে জরিপের ফল তুলে ধরেন পপুলেশন স্টাডিজ ডিভিশনের ড. আব্দুর রাজ্জাক সরকার।
বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে-বিডিএইচএস ২০০৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে অপারেশন করা নারীদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে। ২৭ হাজার ৩২৮ জন নারীর মধ্যে এ জরিপ চালানো হয়। যাদের বয়স ১৫ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে।
দেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে ডেলিভারিতে সরকারি হাসপাতালে ঢাকায় ১৩ হাজার ৩৮৩, চট্টগ্রামে ১৫ হাজার ৮৩১, বরিশালে ১৬ হাজার ৮৪৬, খুলনায় ১১ হাজার ৮৯৩, রাজশাহীতে ১০ হাজার ৯৪১, সিলেটে ১৭ হাজার ৮৩৭, রংপুরে ৭ হাজার ৩১, ময়মনসিংহে ১১ হাজার ৫১৬ টাকা ব্যয় হয়।
অন্যদিকে ঢাকার বেসরকারি হাসপাতালে ২৩ হাজার ১৬৮, চট্টগ্রামে ২৫ হাজার ৫০৭, বরিশালে ২৮ হাজার ৯৫৯, খুলনায় ১৫ হাজার ৭২৯, রাজশাহীতে ১৫ হাজার ৭০৫, সিলেটে ৩০ হাজার ৫৫৭, রংপুরে ১৮ হাজার ২৩০, ময়মনসিংহে ১৯ হাজার ৯৭৩ টাকা ব্যয় হয়।
এনজিওর হাসপাতালগুলোতে ঢাকায় ২০ হাজার ৪৯৮, চট্টগ্রামে ১৫ হাজার ২৬৯, বরিশালে ১৫ হাজার ৮২৩, খুলনায় ১৪ হাজার ৭১০, রাজশাহীতে ১০ হাজার ৩৪৬, সিলেটে ২১ হাজার ৪৭৬, রংপুরে ১২ হাজার ৮১, ময়মনসিংহে ১৫ হাজার ৬১ টাকা ব্যয় হয়। কত জন নারী সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে জীবিত থাকছে বা মারা যাচ্ছে। তাদের অপারেশনের পর সার্বিক অবস্থা বেশি একটা জানা যাচ্ছে না। অপারেশনের পর মা ও সন্তানের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে তা চিহ্নিতও করা যাচ্ছে না।
জরিপের ফল প্রকাশের পর সেখানে উপস্থিত এক আলোচক শিরিন হক বলেন, আমাদের দেশে একসময় ধাত্রীপ্রথা ছিল। সেটা হারিয়ে গেছে। অথচ সন্তান জন্ম নেওয়ার আগের লক্ষণগুলো এসব ধাত্রী ভালোভাবে ধরতে পারেন, চিহ্নিতও করতে পারেন। আবার অনেক সময় দেখা যায় ডাক্তারকে অগ্রিম টাকা দিতে হয়। না হলে তারা আসতে চান না। কিন্তু কোনো ধাত্রীর ক্ষেত্রে এমন অবস্থা তৈরি হয়নি যে, অর্থ না দিলে মাঝরাতে তিনি আসবেন না।
অপর একজন বলেন, আগে গ্রামে ছিল মামলা, এখন সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে ডেলিভারির অপারেশন। কোনো-না কোনোভাবে মানুষ টাকা সংগ্রহ করেই থাকে। এতে করে মানুষের পকেট থেকে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সরকারি ডাক্তাররাই বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করছেন, অপারেশন করছেন। ডেলিভারিতে ধনী-গরিব সকলের সমান অর্থ ব্যয় হয়। কেননা প্রত্যেকেই নিজের সবকিছু বিক্রি করে হলেও সন্তানকে বাঁচাতে যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দিকনির্দেশনা হচ্ছে—মোট ডেলিভারির মধ্যে অপারেশন ১৫ শতাংশ হতে পারে কিন্তু বাংলাদেশে সেটি ২০১৭-১৮ সালেই ৩৩ শতাংশে পৌঁছে যায়। একই সময়ে ভারতে ২২ শতাংশ, পাকিস্তানে ২২ , নেপালে ১৬ ও মিয়ানমারে তা ১৭ শতাংশ।
ড. রাজ্জাক বলেন, গ্রামে এ সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তার মূল কারণ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো গ্রামের দিকে মোড় নিচ্ছে।