প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৩ ২১:২৭ পিএম
আপডেট : ০২ জুন ২০২৩ ২১:৩৫ পিএম
রাজধানীর মহাখালীতে নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে পড়া রড মাথায় গেঁথে নিহত শিশুটির পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। ৫ দিন ধরে শিশুটির মরদেহ পড়ে আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। এমনকি পাঁচ দিনেও কেউ শিশুটির সন্ধানে মর্গে যায়নি। ফলে শিশুটি কে, কী তার পরিচয় তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
অবশ্য পুলিশ বলছে, শিশুটির ছবি প্রিন্ট করে মহাখালীর বিভিন্ন বস্তি ও পথশিশুদের দেখানো হচ্ছে। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে শুক্রবার রাত পর্যন্ত শিশুটির পরিচয় মেলেনি।
এদিকে এ ঘটনাকে বীভৎস ও মর্মান্তিক উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার পর থেকেই চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ফেসবুকে এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘এমন ভয়ংকরভাবে কারও মৃত্যু হতে পারে তা কল্পনাও করা যায় না। এখানে গার্ডার চাপায় মানুষ মরছে, রড মাথার ভেতর ঢুকে যাচ্ছে অথচ কারো মাথাব্যথা নেই! গরিবের পোলা মরছে- কার কী যায় আসে? সস্তা কমেডি নাটক আর ফেসবুকের মিমের কল্যাণে গরিব শব্দটাও একটা গালি হয়ে গেছে। এখন গরিবের মৃত্যু কাউকে স্পর্শ করে না, কেউ এটা নিয়ে কথা বলে না।’
গত ২৯ মে মহাখালী রেলগেটের কাছে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে পড়া একটি রড ওই কিশোরের মাথায় ঢুকে যায়। উদ্ধার করে নিয়ে গেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দুপুর পৌনে ১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালটির মর্গেই পরদিন দুপুরে শিশুটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। মৃত শিশুটির পরনে ছিল ছাই রঙের গেঞ্জি ও কালো জিন্স প্যান্ট। এ ঘটনায় হাসান নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনার দিন রাতেই এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সহকারী ব্যবস্থাপক হাসিব হাসান বাদী হয়ে ঢাকা রেলওয়ে থানায় একটি মামলাটি করেন। মামলায় নির্মাণশ্রমিক মো. হাসানকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চরম অবহেলাজনিত অভিযোগ আনা হয়। ওই মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন হাসান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেকান্দার আলী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ’শিশুটির পরিচয় এখনও শনাক্ত হয়নি। গ্রেপ্তার হাসান জানিয়েছে শিশুটির নাম সুমন। তবে সেটাও কতটুক সঠিক, তা জানা যায়নি। ঘটনার দিনই ওই ছেলেটির সঙ্গে হাসানের পরিচয় হয়। তবে তার বাসার ঠিকানা জানেন না।’
তিনি বলেন, ’শিশুটির পরিচয় শনাক্তে রাজধানীর কড়াইল বস্তি, সাততলা বস্তি, নিমতলা বস্তিসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া শিশুটির ছবি প্রিন্ট করে বিভিন্ন জায়গায় দেওয়া হয়েছে। তবে শুক্রবার পর্যন্ত শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।‘
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত হাসানের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। তবে তাকে এখনও রিমান্ডে আনা হয়নি। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসান জানিয়েছেন, রডের টুকরো বিক্রি করার জন্য চুরি করে নিচে ফেলছিল। তবে এর মধ্যেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। শিশুটির মাথায় রড গেঁথে যাওয়ার বিষয়টি এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে দেখেন। এরপর তিনি দ্রুত হেঁটে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
তবে চুরির বিষয়টি মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি ফেরদৌস সাংবাদিকদের বলেন, ’আসলে কী ঘটেছিল, তা তদন্তের বিষয়ে। এখনোই কোনো কিছু বলা ঠিক হবে না। আমরা এখনও ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী পাইনি। তাই প্রাথমিকভাবে অবহেলার বিষয়টি আনা হয়েছে।’