প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৩ ২২:৪৯ পিএম
আপডেট : ২৭ মে ২০২৩ ২২:৫২ পিএম
ঝিনাইদহের বলুহর কেন্দ্রীয় হ্যাচারি কমপ্লেক্সের ছয়টি প্রাকৃতিক বাওড়ে মৎস্যজীবীদের ইজারা বাতিল করায় বেকার হতে বসেছে প্রায় ৪০ হাজার মৎস্যজীবী। বাওড়গুলো ফিরে পেতে মানববন্ধন করেছে মৎসজীবীরা।
শনিবার (২৭ মে) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে একাত্ম প্রকাশ করে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি), শুক্ত সংঘ সোসাইটি, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাসংঘ, স্বেচ্ছাসেবী সনাতনী ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন মঠ-মন্দী।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সনাতন পার্টির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সুমন কুমার রায়, মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের অন্যতম দলনেতা ডা. সুনীল হালদার, হিন্দু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিশ্র প্রমুখ।
সুমন কুমার রায় বলেন, অনতিবিলম্বে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের নিকট বাওড়ের ইজারা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অবৈধ লিজ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের পাশে থেকে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।
ডা. সুনীল হালদার বলেন, বাওড়গুলোতে আমাদের পূর্ব পুরুষরা শত শত বছর ধরে মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এটাই একমাত্র আমাদের জীবিকা নির্বাহের পথ। এই বাওড় অন্যত্র ইজারা দেওয়ায় প্রায় দেড় হাজার পরিবারের ৪০ হাজার মৎস্যজীবী থালা নিয়ে রাস্তায় ভিক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। আমরা মৎস্যজীবীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ভূমি মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সাজন কুমার মিশ্র বলেন, প্রকৃত মৎস্যজীবীদের বঞ্চিত করে অসাধু ও কালো টাকার মালিকগণ, অসৎ কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ইজারা পান। এই ভুক্তভোগী জেলে সম্প্রদায় মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অন্যত্র ইজারা বাতিলের জন্য ১৭১২/২৩ রিট পিটিশন দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত ৬ সপ্তাহের স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে ইজারাদারা ১৬ এপ্রিল ৬ সপ্তাহ স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে ৮ সপ্তাহের স্থগিতাদেশ পায়। এরপর মামলাটি চূড়ান্ত শুনানীর জন্য আগামী ২৯ মে দিন ধার্য রয়েছে। ঐদিন স্থগিতাদেশ বাতিল করে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা যাতে বাওড়ের ইজারা নিতে পারে তার সুব্যবস্থা করতে মাননীয় প্রধান বিচারপ্রতির দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
নিত্য হালদার বলেন, শত শত বছর ধরে আমরা সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে বাওড় পরিচালনা করে আসছি। মোট মৎস্য আহরণ এবং বাজারজাত করণে বিক্রয়লব্ধ অর্থের ৬০ শতাংশ সরকার এবং মৎস্যজীবীরা ৪০ শতাংশ পেয়ে আসছে। হঠাৎ করে অন্যত্র প্রকৃত মৎস্যজীবীদের বঞ্চিত করে বাওড় ইজারা প্রদান করায় প্রায় দেড় হাজার পরিবারের ৪০ হাজার মৎস্যজীবী সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পড়বে। তাদের আত্মহত্যা করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকবে না। তাই প্রকৃত মৎস্যজীবীদের হাতে ইজারা প্রদান করতে অথবা পূর্বের অবস্থায় বাওড় মৎস্যজীবীদের হাতে ফিরিয়ে দিতে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।