প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৩ ১৫:৩৫ পিএম
আপডেট : ২৭ মে ২০২৩ ১৫:৩৯ পিএম
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘মায়ের ডাকের’ উদ্যোগে গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেওয়াসহ গুম বন্ধের দাবিতে মানববন্ধনে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা। প্রবা ফটো
‘আমার বাবাকে ফিরিয়ে দিন। অন্যদের মতো বাবার হাত ধরে আমিও হাঁটতে চাই। আমি বাবার ফিরে আসার পথ চেয়ে অপেক্ষায় আছি...’ কথাগুলো বলতে বলতে একপর্যায়ে কান্নায় আর কিছু বলতে পারেনি শিশু আরিয়ান। তার কথা কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে জাতীয় প্রেস ক্লাবের পরিবেশ। ক্লাবের সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে বাবার সন্ধান চাইছে নিখোঁজ খালেদ হাসান সোহেলের ছোট্ট ছেলে।
শুধু বাবা হারানো ছোট্ট আরিয়ানই নয়, নিজেদের দুঃসহ কষ্টের কথা তুলে ধরেন নিখোঁজ ব্যক্তিদের বেশ কয়েকজন স্বজন। তাদের কেউ বাবার খোঁজে, কেউ সন্তানের, কেউবা স্বামী অথবা ভাইয়ের খোঁজে রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন।
শনিবার (২৭ মে) আন্তর্জাতিক গুম সপ্তাহ উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘মায়ের ডাকের’ উদ্যোগে গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেওয়াসহ গুম বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে সই ও গুমের অভিযোগ তদন্তে সরকারকে নিরপেক্ষ কমিশন গঠনেরও দাবি জানানো হয়।
এ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতা কমরেড সাইফুল হক, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য তাবিথ আউয়াল, মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন, আলোকচিত্রশিল্পী, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী শহিদুল আলম, নারীনেত্রী ফরিদা আক্তার।
এছাড়া আরও বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের গুম হওয়া সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন সবুজের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জিনিয়া, গুম হওয়া সাজেদুল ইসলাম সুমনের ছোট মেয়ে আরোয়া ইসলাম, ড্রাইভার কাউসারের মেয়ে লামিয়া ইসলাম মীম, শিশু হৃদি, শিশু সাফা, মাহবুব হোসেন সুজনের ভাই সাকিল, বরিশালের গুম হওয়া ফিরোজ খানা কালুর স্ত্রী আমিনা আক্তার বৃষ্টিসহ কয়েকজন।
গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে সই ও গুমের অভিযোগ তদন্তে সরকারকে নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করার দাবি জানান মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) নির্বাহী পরিচালক নুর খান লিটন।
গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি ন্যায় ও মানবাধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গুমের মতো ঘৃণ্যতম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বন্ধ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বারবার বলপূর্বক অন্তর্ধান বা গুমের ঘটনা অস্বীকার করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে পরিবার, স্বজন বা প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা, সাংবাদিক বা মানবাধিকার সংগঠনের তথ্যানুসন্ধানে গুমের সুস্পষ্ট অভিযোগ উঠে এসেছে।’
মানববন্ধনে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি জানানো হয়। সেগুলো হলো- গুমের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের যথাযথ পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোকে অস্বীকার না করে এ ধরণের ঘটনার বিচার নিশ্চিতে বিদ্যমান আইন কাঠামোতে পরিবর্তন আনা। নিখোঁজদের খুঁজে বের করা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। গুমের শিকার সব নিখোঁজ ব্যক্তিদের শিগগির খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।