× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এবারও খেলার মাঠে গরুর হাট বসাচ্ছে ডিএনসিসি

ফয়সাল খান

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৩ ১২:৩৮ পিএম

তেজগাঁওয়ে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের খেলার মাঠ কোরবানির পশুর হাটের জন্য ইজারা দেয়ছে ডিএনসিসি। ছবি : আরিফুল আমিন

তেজগাঁওয়ে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের খেলার মাঠ কোরবানির পশুর হাটের জন্য ইজারা দেয়ছে ডিএনসিসি। ছবি : আরিফুল আমিন

মাত্র ৬০ লাখ টাকা আয় করার জন্য খেলার মাঠ গরুর হাটের ইজারা দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। যদিও সংস্থাটির মেয়রসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বরাবরই বলে আসছিলেন খেলার মাঠে কোনো হাট বসানো হবে না।

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সংস্থাটি যে আটটি হাটের ইজারা দিচ্ছে তার একটি তেজগাঁওয়ে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের খেলার মাঠ। এই হাটের সরকারি মূল্য ধার্য করা হয়েছিল ৬০ লাখ ৬৩ হাজার ২০০ টাকা। স্থানীয় হোসেন খান ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকায় হাটের ইজারা নিয়েছেন। 

নিয়ম অনুযায়ী কোরবানির ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন এ মাঠে গরুসহ পশু বেচাকেনা চলার কথা। কিন্তু কোরবানির পশুর হাট বসানোর কারণে মাঠটি এক থেকে দুই মাস খেলার অনুপযোগী থাকবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিএনসিসির ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের এ মাঠে প্রতি বছরই কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাট বসানো হয়। কিন্তু স্থানীয়দের সমালোচনার মুখে ২০২২ সালে এ জায়গায় হাট বসানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে ডিএনসিসি। সে আলোকে ওই বছর প্রাথমিক দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে এ মাঠের নাম ছিল না। এরপর স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই মাঠে হাট বসানোর জন্য দরপত্র আহ্বান করে সংস্থাটি। গত বছরও এই মাঠে গরুর হাট বসে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই ওয়ার্ডের হাতিরঝিলের উত্তর-পশ্চিম পাশের বিশাল এলাকায় সরকারি বা সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন কোনো খেলার মাঠ নেই। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি খেলার মাঠ রয়েছে। এর মধ্যে টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে সবাই ঢুকতে পারে না। ফলে স্থানীয় শিশু-কিশোরদের একমাত্র খেলার জায়গা ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এই খেলার মাঠ।

স্থানীয় বাসিন্দা ব্যাংকার মবিনুর রহমান বলেন, প্রতিদিন বিকালে ছেলেরা এখানে খেলাধুলা করে। কোরবানির ঈদের আগে হাটের জন্য মাঠটি অন্তত এক মাস বন্ধ থাকে। ঈদের অন্তত ১৫ দিন আগে হাট বসানোর কাজ শুরু হয়ে যায়। ঈদের পর আরও ১০ থেকে ১৫ দিন লাগে মাঠ ঠিকঠাক করতে। অনেক সময় হাট শেষে মাঠ যথাযথভাবে প্রস্তুতও করা হয় না। তা ছাড়া অন্যান্য সময় মাঠটিতে গাড়ির পার্কিং থাকায় বাচ্চারা ঠিকমতো খেলাধুলা করতে পারে না।

স্থানীয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন জানান, বাচ্চারা তো খেলতে চায়। কিন্তু খেলার জায়গা না থাকা এবং পড়াশোনার চাপে খেলতে পারে না। ঈদের সময় কিছুটা সময় পেলেও তখন মাঠে গরুর হাট বসে। তাই ছুটির ওই সময়টুকুতে চেষ্টা করেন বাচ্চাদের নিয়ে গ্রামে চলে যেতে। কিন্তু সব সময় তো আর এটা সম্ভব হয় না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সফিউল্লাহ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, গরুর হাট কয় দিন আর। সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ মাঠ বন্ধ থাকবে। এরপর তো ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করতে পারবে।

ঢাকার খেলার মাঠ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, ঢাকায় খেলার মাঠ নেই বললেই চলে। এর ওপর খেলার মাঠে গরুর হাট বসানো দুঃখজনক। তবে খেলার মাঠে গরুর হাট বসানোর প্রবণতা আগের চেয়ে কমে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, সব মিলিয়ে এক সপ্তাহ বলা হলেও গরুর হাট বসালে মাঠ কমপক্ষে এক থেকে দুই মাস বন্ধ থাকে। তা ছাড়া হাট বাসানোর ফলে মাঠের ওপর যে অত্যাচার হয়, সেই অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনতেও অনেক সময় লাগে।

ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মাহে আলম বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের সফরে চীনে রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে আছেন সংস্থাটির আইন কর্মকর্তা তাসনুভা নাশতারান। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। এ সংক্রান্ত কোনো ফাইলও তার কাছে নেই।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা