প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৩ ১৭:২৪ পিএম
আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৩ ১৭:৪৯ পিএম
ঢাকা ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান। ছবি : সংগৃহীত
আসন্ন রমজানে পানি ব্যবহারে রাজধানীবাসীকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান। তিনি বলেন, পানি সরবরাহ আমরা স্বাভাবিক রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করব। রমজানে আমাদের অনুরোধ পানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হন। পানি শুধু পয়সা দিয়ে কিনলেই হবে না, পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। আপনার অপচয়ের কারণে অন্যের পানি খাওয়ার অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয় সে বিষয়ে সচেষ্ট থাকুন। সবার সহযোগিতায় রমজানে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে বলে আশা করছি।
শনিবার (১৮ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ওয়াসা ভবনে আয়োজিত ‘আসন্ন রমজানে পানি সরবরাহ নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়’ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তাকসিম এ খান বলেন, গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির চাহিদা বাড়ছে। আরও বাড়বে। সেটা ট্যাকেল করার মতো সামর্থ্য আমাদের রয়েছে। ঢাকায় পানির চাহিদা প্রচুর ওঠানামা করে।
ওয়াসার এমডি বলেন, শীতকালে পানির চাহিদা কমে ২০০ থেকে ২১০ কোটি লিটার হয়। শীত ও বর্ষায় মানুষ পানি ব্যবহার করে কম। এই দুই মৌসুমে পানির চাহিদা কিছুটা কমে যায়। শুষ্ক মৌসুমে পানির চাহিদা ২৬০ থেকে ২৬৫ কোটি লিটার। এর বিপরীতে ওয়াসার সক্ষমতা ২৯৫ কোটি লিটার।
তিনি বলেন, দেশের অন্যতম বড় উৎসব ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রমজানের আগে থেকেই ঢাকা শহরে ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী ও অস্থায়ী দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। যার ফলে সাময়িকভাবে পানির চাহিদা আরও বাড়ে। এসব কারণে সাময়িকভাবে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হলেও তা মোকাবিলার জন্য ঢাকা ওয়াসা প্রস্তুত রয়েছে।
তাকসিম এ খান বলেন, ওয়াসা রমজানে ঢাকায় পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়েছে। ঢাকা ওয়াসার সব পানি শোধনাগার ও পানির পাম্পগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে। বিদ্যুৎ বিভ্ৰাটকালীন পানির পাম্পগুলো ‘ডুয়াল সোর্স’ বিকল্প মাধ্যমে চালু রাখা হবে। সব জোনাল অফিসে পর্যাপ্ত পানির গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, রমজান উপলক্ষে বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে জনসমাগম স্থান, যেমন : গুলিস্তান, ফার্মগেট, মহাখালী, গাবতলী, যাত্রাবাড়ী, কমলাপুর, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডসহ এরূপ সব জোনের বিভিন্ন স্থানে ইফতার ও সাহরির সময় প্লাস্টিক ট্যাংক/ট্রলি স্থাপন করে পানি সরবরাহ করা হবে। রাজধানীর মসজিদগুলোতে পানি সরবরাহ নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে পানি সরবরাহের জন্য ঢাকা ওয়াসায় ৪৮টি পানির গাড়ি এবং ১৭টি ট্রাক্টর প্রস্তুত রাখা হয়েছে। লোডশেডিংয়ের সময় স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার সোর্স হিসেবে ৩৮০টি ফিক্সড জেনারেটর এবং ১৯টি মোবাইল জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অভিযোগ নেওয়ার জন্য ‘ওয়াসালিংক-১৬১৬২’ এবং ১১টি অভিযোগ কেন্দ্ৰ ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হবে।
ঢাকা ওয়াসার এমডি বলেন, পানির পাম্প মনিটরিংয়ের জন্য ১০টি অ্যাডভাইজরি ও মনিটরিং টিম তৎপর থাকবে। আশা করা যায়, কোনো সমস্যা দেখা দেবে না।