বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৩ ২১:৪৪ পিএম
আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৩ ২১:৫৫ পিএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজি। প্রবা ফটো
চাঁদাবাজির অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজিসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। বুধবার (১৫ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালতে মশিউর রহমান লিজন নামে এক ব্যবসায়ী বাদী হয়ে মামলা করেন।
আদালত মামলাটি গ্রহণ করে ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অভিযোগ তদন্ত করে ১৬ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ফরহাদ ব্যাপারী, আরশাদ আকাশ, রাসেল চাকলাদার ও টুটুল আহমেদ।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জহির কামাল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট আসামি ফরহাদ ব্যাপারী বাদীর কাছ থেকে ব্যবসার কথা বলে ৪ লাখ টাকা ধার নেন এবং ব্যবসায় লাভ হলে লভ্যাংশ দেবেন বলে জানান। কিন্তু কিছুদিন পর বাদী আসামির কাছে টাকা চাইলে তিনি ব্যবসায় লস হয়েছে বলে জানান। এ ছাড়া, পাওনা টাকা শিগগিরই ফেরত দেবেন বলেও জানান। এরপর গত বছরের ৫ অক্টোবর পাওনা টাকা চাইলে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। আসামি ইব্রাহিম ফরাজি বাদীকে এ সমস্যা সমাধান করে দেবেন বলে জানিয়ে তাকে দেখা করতে বলেন।
গত বছরের ১৮ নভেম্বর ইব্রাহিম ফরাজির কথা মতো তার ঠিকানায় পৌঁছলে আসামিরা তাকে কক্ষের ভেতর নিয়ে মারধর করেন। তখন অপর আসামি আরশাদ আকাশ পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাদীকে পিস্তল ঠেকিয়ে জিম্মি করে একটি আইফোন এবং ১১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। এ সময় তার হাতে পিস্তল ধরিয়ে দিয়ে ছবি তুলে তার বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে হুমকি দেন। এ ছাড়া, বাদীর মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করেন এবং এসব বিষয়ে কাউকে জানালে মিথ্যা মালমা দিয়ে বাদীকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলা হুমকিও দেন।
লিজনের বন্ধু ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শিবলী বলেন, ‘আমি লিজনের সঙ্গে একদিন ঘুরতে বের হয়েছিলাম। একপর্যায়ে একটি বাসার নিচে গেলে ইব্রাহিম ফরাজি লিজনকে সঙ্গে নিয়ে বাসার ভেতর ঢুকে যায় আর আমাকে সেখান থেকে বিদায় করে দেয়। পরে শুনেছি লিজনের সঙ্গে এসব ঘটেছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জবি ছাত্রলীগ সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজি বলেন, ‘মামলা করার অধিকার সবার আছে। মামলা তদন্তের জন্য থানায় দেওয়া হয়েছে। আমি অনৈতিক কাজে জড়িত থাকলে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রমাণ না হলে মানহানির মামলা করা হবে।’
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।